লকডাউনের মাঝেও আমতার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে চলছে পড়াশোনা

নিজস্ব সংবাদদাতা : লকডাউনের জেরে বন্ধ স্কুল। পাড়ার মাঠে খেলতে বেরোনাও বন্ধ।রূপম, ঈশিতা, অন্বেষার মতো খুদেরা মোবাইলে ব্যস্ত। না, কোনো গেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আড্ডা নয়, মোবাইলের মাধ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা – ১ ব্লকের সোনামুই হরিসভা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ইতিমধ্যেই করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ১০ ই জুন পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি কোচিং বা গৃহ শিক্ষকদের পড়ানোও বন্ধ।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে ও সিলেবাস এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে টিভি চ্যানেলে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চবিদ্যালয়ের তরফে ই – ক্লাস শুরু করা হয়েছে। সেই পথ অনুসরণ করেই পড়ুয়াদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের অনলাইনে পড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আমতার এই প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ খাঁ উদ্যোগ নিয়ে রাজ্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন মডেল প্রশ্নোত্তর ছাত্রছাত্রীদর অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি, বিভিন্ন ছড়া, টপিকও বুঝিয়ে তা অডিও, ভিডিও করে পাঠাচ্ছেন। দেওয়া হচ্ছে হোম টাস্কও। শিক্ষার্থীরা সেইসব পড়া বা অঙ্ক করে মা – বাবার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পাঠিয়ে দিচ্ছে তাদের প্রধান শিক্ষককে। তিনি তা দেখে পুনরায় ছাত্রছাত্রীদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন।প্রয়োজনে সংশোধন করে দিয়ে তাদের ফোনে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।প্রধান শিক্ষক অরুণ খাঁ জানান, “বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জন্যই আপাতত এই ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছে প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া। তারাও অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ব্যবস্থায় ক্লাসরুমের মতো সুচারুভাবে পড়াশোনা না হলেও খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে ও তাদের নিয়মিত হোমটাস্ক দিতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অনিরুদ্ধ পাঁজার কথায়, “স্যার আমাদের নিয়মিত কবিতা পড়াচ্ছেন। প্রশ্নোত্তর তৈরি করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আমরা ফোন করে পড়া দিচ্ছি। অঙ্কের অসুবিধা হলেও স্যার সমাধান করে ছবি তুলে পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন” লকডাউনের মধ্যেও মাস্টারমশাইয়ের এই উদ্যোগকে একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন মণিকা মান্না, সৌরভ আদক, টুম্পা পাঁজাদের মতো অভিভাবক – অভিভাবিকারা।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা