সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বন্যারোধ করতে মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো উদয়নারায়ণপুরে

নিজস্ব সংবাদদাতা : সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ওয়েষ্ট বেঙ্গল মেজর ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও পরিবহন দফতরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে উদয়নারায়ণপুরের খিলা হাইস্কুলের মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের পাঁচটি জেলার ৪১টি ব্লক জুড়ে এই কাজ হবে। এর জন্য ব্যায় হচ্ছে ২৯৩১.৬৯ কোটি টাকা। উপকৃত হবেন প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ। এই কাজ শেষ হলে বন্যা অতীত হয়ে যাবে। তবে এই কাজ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যাতে নিজেদের বড়াই না করতে পারে সেটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিশ্ব ব্যাংক থেকে রাজ্য সরকার কম সুদে ঋণ নিয়ে এই কাজ করছে। এখানে কেন্দ্রের কোনো ভূমিকা নেই। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।‌ এলাকার সকল মানুষকে এই উদ্যোগে সহায়তা করার আহ্বান জানান। শুভেন্দু বলেন এখানে স্পেশালাইজড সংস্থা কাজ করবে। সবাই সহযোগিতা করবেন। সেচ দফতর সূত্রে খবর এই কাজের রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি ও হাওড়া এই ৫টি জেলার ৪১টি ব্লকের মানুষ উপকৃত হবে।

দামোদর সংলগ্ন ওই পাঁচ জেলার চাষের জন্য সেচের কাজে ব্যবহৃত খালের আমূল সংস্কার ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হবে। তৈরি করা হবে স্বয়ংক্রিয় স্লুইসগেট ও রিমোর্ট সেন্সিং সিস্টেমের গেট তৈরি করা হবে। এতে প্রায় ৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষের কাজ সহজতর হবে। এছাড়া সেচের জন্য চাষিরা ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করেন। এতে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এই অবস্থা পরিবর্তন ও সম্ভব হবে সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ফলে, এমনটাই দাবি সেচ দফতরের কর্তাদের। চাষিদের জন্য সহজলভ্য মোবাইল অ্যাপ চালু করবে সেচ দফতর। এছাড়া ওই পাঁচটি জেলার মধ্যে ২টি জেলার ২০টি ব্লকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ হবে। এই প্রকল্প রূপায়ণে রাজ্যের জল সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতর, কৃষি দফতর, কৃষি বিপনন দফতর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতর এবং মৎস্য দফতরের সহায়তা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল ও ২৭০০ কিলোমিটার অন্যান্য সেচ খালের উন্নতি করা হচ্ছে।

প্রকল্পকিতে রাজ্য সরকারের দেয় অর্থ ৮৭৮.৭৯ কোটি টাকা, বিশ্ব ব্যাংক দেয় টাকার পরিমাণ ১০২৬.৪৪ কোটি টাকা আর এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের দেয় টাকার পরিমাণ ১০২৬.৪৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে করা হবে দামোদরের দুই তীরের বাঁধ, রামপুর ও হুড়হুড়া খালের বাম তীরের বাঁধ ভাঙন রোধের জন্য পুনঃ নির্মাণ করা হবে । এর মধ্যে ৭৭.৩ কিলোমিটার বাঁধ ও ১১৮ কিলোমিটার রাস্তার পুনঃনির্মাণ করা হবে। মুন্ডেশ্বরী নদীর এবং রনের খাল ও মান্দারিয়া খালের পলি তোলার কাজ করা হবে। এছাড়া দামোদরের ডান তীরের প্রধান খাল, পানাগড় শাখা খাল, দূর্গাপুর শাখা খালের উন্নতিকরণ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য মুন্ডেশ্বরী খাল, নিম্ন রামপুর খালের বাঁধের সুদৃঢ়করণ এবং মজা দামোদর, কামারিয়া খালের পলি তোলা হবে। মাদারিয়া খাল, দামোদরের উপর স্লুইসগেট ও জল সরবরাহের ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর কাজ করবে সেচ দফতর। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী নির্মল মাজি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাবেরী দাস, হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি মেহেবুব রহমান, সেচ দফতরের যুগ্ম সচিব দেবাশীষ সেনগুপ্ত, হাওড়া জেলাশাসক মুক্তা আর্য, বিধায়ক সমীর পাঁজা, পুলক রায়, গুলশান মল্লিক প্রমুখ।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা