পিকনিকের ভরা মরসুমেও পর্যটকের অভাবে ভুগছে গড়চুমুক, গাদিয়াড়া সহ উলুবেড়িয়ার একাধিক পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব সংবাদদাতা : পিকনিকের ভরা মরসুমেও পর্যটকের অভাবে ভুগছে উলুবেড়িয়ার গড়চুমুক, গাদিয়াড়া, ফুলেশ্বর, মহিষরেখা সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটক না আসায় হতাশ এলাকার হোটেল মালিক থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যাবসায়ীরা। পর্যটক কম আসার কারণ হিসাবে তারা কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মুল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।

শেষ কবে ২৫শে ডিসেম্বর এই পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে এত কম মানুষ এসেছেন তারা মনে করতে পারছেন না। এদিন ভীড়ের আশঙ্কায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ সিভিক ভলেন্টিয়ার্সের পাশাপাশি জেলা পরিষদের তরফ থেকে অতিরিক্ত কর্মী আনা হয়েছিল। তাদের দিন কেটেছে বসে বসেই। গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্রের পার্কিং এ এদিন গাড়ির সংখ্যা ছিল তিনটি বাস সহ মেরেকেটে গোটা পনেরো। এই দৃশ্য‌ই প্রমাণ করে পর্যটকদের কম হাজিরা।

পিকনিক করতে আসা বাগনানের বাসিন্দা অনুতোষ বেরা বলেন এর আগেও বড়দিনে গড়চুমুক এসেছি। ভীড়ের আশঙ্কায় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে সকাল সকাল এসে গিয়েছিলাম। এসে দেখলাম বেশ ফাঁকা। বেলা বাড়লেও ভীড় খুব একটা বাড়েনি। অন্যান্য বছর এই দিনে তিলধারণের জায়গা পাওয়া যায় না বলেও তিনি জানান। শ্যামপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা টোটোন পাল বলেন এত কম মানুষ দেখে সত্যিই খারাপ লাগছে।

এটা পর্যটন কেন্দ্রের জন্য‌ও খুব খারাপ। গাদিয়াড়া থেকে আগত মমতা ভট্টাচার্য বলেন নাগরিকত্ব সংশোধনের আইন পাশের পর উলুবেড়িয়া জুড়ে যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কারণেই এত কম মানুষ এসেছিলেন বলে তিনি মনে করেন। দক্ষিনেশ্বর থেকে সপরিবারে আগত অম্লান ভদ্র বলেন বাস রিজার্ভ করে আসার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক অশান্তির জন্য অনেকেই আসতে রাজি হননি। তাই চড়ুইভাতি না করে সপরিবারে বেড়াতে এসেছেন।

পর্যটন কেন্দ্রে প্লাস্টিকের খেলনা সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রেতা ছায়ারানী মিদ্দা বলেন দুপুর দুটো পর্যন্ত ব‌উনি হয়নি। পর্যটক নেই। বড়দিনে এত কম মানুষ তিনি দেখেননি বলেও তিনি জানান। পর্যটন কেন্দ্রের ভিতরে ভ্যান চালানো ভ্যান চালক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন সারাদিন মাত্র এক টিপ যাত্রী পেয়েছি। স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ পর্যটন কেন্দ্র থেকে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা