বাগনানে বিজেপির বন্ধকে ঘিরে ধুন্ধুমার, পুলিশের লাঠিচার্জ, মৃতের বাড়িতে গেলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাগনানে গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা কিঙ্কর মাঝির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিজেপির ডাকা ১২ ঘন্টার বাগনান বন্ধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান। সকালে বাগনান রথতলায় বিজেপি সমর্থকরা বন্ধের সমর্থনে মিছিল করার উদ্দেশ্যে জমায়েত করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মিছিল থেকেই ১৫ টি তাজা বোমা উদ্ধারের হয়। অবৈধভাবে জমায়েত, পুলিশের উপর আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বোমা রাখার অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে ৬ জন বিজেপি নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়তে থাকে।

দুপুরে বাগনানে আসেন বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বাগনান লাইব্রেরী মোড়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। তারপর তিনি গ্রেফতার হওয়া বিজেপি কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে বাগনান থানায় যান।সেইসময় বাগনান থানার গেটে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।

বিজেপি কর্মীরা জোর করে থানার গেট টপকানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তারপরই থানার সামনে রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বাগনান থানা থেকে বেড়িয়ে মৃত বিজেপি নেতা কিঙ্কর মাঝির বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে পুলিশ বাধা দেয় বলে অভিযোগ। সেখানে গিয়ে মৃতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ।

সৌমিত্র খাঁ বলেন, “বাংলায় তালিবানী সরকার চলছে।” তিনি আরও বলেন, “চারিদিকে বিজেপি নেতা কর্মীরা খুন হচ্ছে বাগনান, হাওড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীরা খুন হচ্ছে। ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি নেতা কর্মীরা।” গোটা হাওড়া জ্বলবে বলেও হুশিয়ারি দেন সৌমিত্র খাঁ।

তারপর মৃতের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবিতে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সদর কার্যালয় পানিয়াড়ায় যান সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কার্যালয়ে পুলিশ সুপার না থাকায় তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাথে দেখা করেন।

সেখান থেকে বেরিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “কচ্ছপও চলতে পারে কিন্তু এই সরকার চলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “কি উত্তর দেবেন ভাবতে না পেরে পুলিশ সুপার ভয়ে পালিয়ে গেলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাথে কথা বলে মনে হলো কোন জড় পদার্থের সাথে কথা বলছি।”

তিনি আরও বলেন বাগনান থানার আইসির বিরুদ্ধে আমরা দিল্লিতে মানব অধিকার কমিশন এ যাবো। বিষয়টি সম্পর্কে রাজ্যপালকেও জানাবো। এর পাশাপাশি, বাগনান থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দেন সৌমিত্র।

বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি জানান, “আগামী তিনদিন হাওড়া জেলার সমস্ত থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পাশাপাশি, শুক্রবার গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সমস্ত থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করা হবে বলেও তিনি জানান।”

অন্যদিকে, বিজেপির বন্ধকে ব্যর্থ করতে সকাল থেকেই বাগনানে পথে নেমেছিল তৃণমূল কর্মীরা। বেশ কিছু জায়গায় দফায় দফায় মিছিল করেন তৃণমূল কর্মীরা। বেলায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাগনান শহরে মহামিছিল করেন এলাকার বিধায়ক অরুণাভ সেন।

অরুণাভ সেন বলেন, “আমরা সমস্ত ধরনের খুনের বিরোধী। কিঙ্কর মাজির এই ভাবে মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ঘটনা। তবে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। জমিজমা নিয়ে পারিবারিক গোলমালের জেরেই এই গুলি চালানোর ঘটনা। বিজেপি মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা এই বন্ধের তীব্র বিরোধিতা করি।” বন্ধ উপেক্ষা করে রাস্তায় নামার জন্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানান বাগনানের বিধায়ক।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা