ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল উলুবেড়িয়ার সঞ্জীবন হাসপাতালের এক নার্সিং অ্যাসিস্টেন্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা : ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু যুবতীর। ট্রেন চলে আসায় স্টেশনের প্লাটফর্মের যাত্রী আসনে মোবাইলটি ভুলে রেখে দিয়েই ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন উলুবেড়িয়ার সঞ্জীবন হাসপাতালের এক নার্সিং অ্যাসিস্টেন্ট স্টাফ। পরক্ষনেই মনে পড়ে মোবাইলটি রয়ে গিয়েছে স্টেশনে বসে থাকা সিটে। এ অবস্থায় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে যান তিনি। পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল ওই নার্সিং অ্যাস্টিস্টেন্ট স্টাফের। শুক্রবার ১০টা নাগাদ মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর শাখার ফুলেশ্বর স্টেশনে। রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত নার্সিং অ্যাসিস্টেনের নাম শিবানী ঘড়ুই (২৪)। তার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায়। ‌জানা গিয়েছে তিনি এদিন ১০টা নাগাদ তিনি ফুলেশ্বর স্টেশনে বসে ছিলেন ট্রেন ধরার জন্য। বৃহস্পতিবার তিনি নাইট ডিউটি করেন। তারপর দুদিন ছুটি থাকায় তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। বিস্তারিত জানতে নীচে পড়ুন...

সেই জন্য ট্রেন ধরার জন্য ফুলেশ্বর স্টেশনে বসে ছিলেন। তখনই এই ঘটনা ঘটে। দ্রুত রেল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে খবর যায় ফুলেশ্বর সঞ্জীবন হাসপাতাল। শিবানীকে নিয়ে আসা হয় সঞ্জীবন হাসপাতালে। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসাসার পর তিনি মারা যান। খবর দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া থানায়। তার দেহ পাঠানো হবে ময়নাতদন্তে। আগামীকাল ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। শিবানীর মৃত্যুর বিষয়টি সঞ্জীবন হাসপাতাল এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে শিবানির পরিবারকে। শনিবার তার পরিবারের লোকেদের আসার কথা। জানা গিয়েছে শিবানী উল্টো দিকে পড়ে গিয়েছিলেন। ফলে তার মাথায় গুরুতর চোট লাগে।

সঞ্জীবন হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে শিবানী বছর ছয়েক ধরে তাদের সেখানে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে শিবানী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসে এখানে নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ দেয়। পাশাপাশি শিবানীর পড়াশোনারও ব্যবস্থা করেছে। শিবানী বর্তমানে নার্সিংয়ের জিএনএম কোর্স করছিলেন কর্ণাটক থেকে। শিবানীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তার সহকর্মীরা। হাসপাতালের কর্তা শুভাশিস মিত্র বলেন অত্যন্ত দুঃখের খবর। আমরা শিবানীর অকাল প্রয়াণে শোকাহত। আমরা তার পরিবারের পাশে রয়েছি এবং থাকবো।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা