থ্যালাসেমিয়া সচেতনতায় গ্রামঘুরে প্রচার চালাচ্ছে শ্যামপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা : চিকিৎসকরা বারবার বলেন, সচেতনতাই পারে থ্যালাসেমিয়াকে প্রতিরোধ করতে। একটু সচেতন হলেই থ্যালাসেমিয়া নামক মারণ রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সেই সচেতনতার লক্ষ্যেই গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বুকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আশীষ, অসিত, শুভদীপ, স্বরূপরা। শ্যামপুরের আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বাড়ির দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন ‘আমড়দহ অঞ্চল ব্লাড গ্রুপ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এলাকার যুবক-যুবতীদের সাথে কথা বলে তাদের থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতন করছেন সংগঠনের সদস্যরা।

এর পাশাপাশি, বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া টেস্ট করিয়ে নেওয়ারও অনুরোধ করছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার আশীষ, স্বরূপরা শ্যামপুরের বড়ো ঘুঘুবেসিয়া গ্রামের ময়না মন্ডলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। থ্যালাসেমিয়ার ব্যাপারে তাঁদের থেকে সব শোনার পর ময়না বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া টেস্ট করানোর ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। থ্যালাসেমিয়া সচেতনতার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে নিয়মিত মুমূর্ষু রোগীদের রক্তদান করছেন সংস্থার সদস্যরা।

সংগঠনটির কর্তা শিক্ষক আশীষ মন্ডল বলেন, “থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অসহায় পরিবারগুলোর অবস্থা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে আমাদের এই আন্দোলন।” তিনি আরও বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে রক্তদান শিবির দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ব্ল্যাডব্যাঙ্কগুলি প্রায় রক্তশূন্য হয়ে পরেছিল।এর জেরে থ্যালাসেমিয়া রোগী সহ অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী ও তাদের পরিবার সমস্যায় সম্মুখীন হয়। এই অবস্থায় আমরা হোয়াটসগ্রুপের মাধ্যমে এই সংগঠন গড়ে তুলি। আমরা ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী ও ৩৫ জন অন্যান্য রোগীকে রক্তের বন্দোবস্ত করে দিয়েছি।” এলাকার শিক্ষক অসিত প্রামানিক বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে প্রচুর মানুষ এই হোয়াটস্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাহায্য পাচ্ছেন।আগামী দিনেও এই লড়াই চালিয়ে যাক এই সংগঠন।”

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা