উলুবেড়িয়ার পর বাউড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাউরিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী পূরন হতে চলেছে। তারা পেতে চলেছেন রেল উড়ালপুল পুল। উলুবেড়িয়ার পর  বাউড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরনে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া। উলুবেড়িয়ার প্রয়াত সাংসদ সুলতান আহমেদ সাংসদ থাকাকালীন উলুবেড়িয়াতে রেল ওভারব্রিজের পাশাপাশি, বাউরিয়াতেও রেল ওভারব্রিজ গড়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। এরপর তার প্রয়ানের পর উলুবেড়িয়ার সাংসদ হন সাজদা আহমেদ । তিনি সাংসদ হবার পর একাধিকবার একই দাবীতে রেল মন্ত্রককে চিঠি করেন।  রেল সুত্রে জানাগেছে  দক্ষিন পূর্ব রেলের হাওড়া খড়গপুর শাখার বাউড়িয়া ইষ্ট কেবিন ও রেল স্টেশনের মাঝে  উড়ালপুলটি যৌথভাবে নির্মান করবে রেল ও রাজ্য সরকার । রেল লাইনের অংশটি করবে রেলওয়ে ও বাকি অংশ রাজ্য সরকারের পূর্ত (সড়ক) দপ্তর তৈরী করবে। সুত্রের খবর সবকিছু ঠিক থাকলে পূজোর পরেই  টেন্ডার  প্রক্রিয়া শুরু করবে রেল ও পূর্ত দপ্তর। উল্লেখ্য হাওড়া জেলার  মানচিত্রে হুগলি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে পড়ে বাউড়িয়া।এই বাউরিয়াতে রয়েছে একাধিক কারখানা।

এই শিল্পাঞ্চল কে ঘিরে ওঠে বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রসঙ্গত বাউরিয়া এলাকাটি পড়ে উলুবেড়িয়া পুরসভার মধ্যে। শুধু তাই নয় একদিকে ৬ নং জাতীয় সড়ক ও অন্যদিকে হুগলী নদী এবং মাঝখানে দক্ষিণ পূর্ব রেলপথ থাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে এই অঞ্চল। যদিও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয় বাউড়িয়া নলপুরের মাঝে ইস্ট কেবিনের কাছে থাকা রেলওয়ে ক্রশিং।  দিনের অধিকাংশ সময়ে এই লেভেল ক্রশিংয়ের গেট পড়ে থাকার কারনে সমস্যায় পড়েন স্হানীয় লোকজন। শুধু তাই নয় দীর্ঘক্ষণ গেট পড়ে থাকার কারণে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হওয়া ছাড়াও  বাউড়িয়া শিল্পাঞ্চলে থাকা একাধিক কারখানায় কাঁচামাল বহনের ক্ষেত্রে ও সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর বাউড়িয়া উড়ালপুলটি পশ্চিমদিকে বুড়িখালি থেকে শুরু হয়ে পূর্বদিকে বাউড়িয়া সিনেমা হলের কাছে শেষ হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর বাউড়িয়া্ উড়ালপুলটি নির্মানের ব্যাপারে রেল ও রাজ্য সরকারের তরফে সবুজ সংকেত মিলেছে।

পূজোর পরেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানাগেছে।  উড়ালপুলটি নির্মান করতে খরচ হবে ৭৬ কোটি ৯৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৭১১ টাকা। যার মধ্যে রেল দেবে ৩৬ কোটি ২২ লক্ষ৮০ হাজার ২৩৪ টাকা এবং রাজ্য সরকার দেবে ৪০ কোটি ৭১ লক্ষ৪৯ হাজার ৪৭৭ টাকা। রেল ও পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর কাজ শুরু হওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে উড়ালপুলের কাজ শেষ করার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাউড়িয়া উড়ালপুল নির্মান প্রসঙ্গে দক্ষিন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ বলেন উড়ালপুলের রেলের অংশটি নির্মানের জন্য খুব শীঘ্র টেন্ডার ডাকা হবে।এই প্রসঙ্গে উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ বলেন মরহুম সুলতান আহমেদ সাংসদ থাকাকালীন বাউরিয়াতে উড়ালপুল নির্মানের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। তারপর আমিও রেল মন্ত্রককে চিঠি করেছিলাম অবিলম্বে উড়ালপুল নির্মানের দাবী করে। ইতিমধ্যে উলুবেড়িয়া উড়ালপুলের কাজ শেষ পর্যায়ে । বাউরিয়াতে উড়ালপুল নির্মাণ প্রসঙ্গে সাজদা আহমেদের বক্তব্য খুব খুশির খবর যে বাউরিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী পূরন হতে চলেছে। তিনি বলেন এরপর আমরা কুলগাছিয়াতে একটি রেল ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা