বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায়, গৃহবধুকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠলো শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা : দাবি মতো টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনতে না পারায় গৃহবধুকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠলো শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গৃহবধুর নাম নার্গিস খাতুন (২২) ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া থানা এলাকার বহিরা আলিপুকুরের হালদার পাড়ায়। বর্তমানে এই গৃহবধু কলকাতার সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গৃহবধুর বাবা মতিয়ার রহমান খান গৃহবধুর স্বামী সেখ সহিদুল্লা, শ্বশুর সেখ আয়ুব আলী, শ্বাশুড়ি মাজেদা বেগম, দেওড় সেখ রাজেশ,তার স্ত্রী মাসুরা বেগম ও আর এক দেওড় শেখ মফিজুলের বিরুদ্ধে উলুবেড়িয়া থানায় পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। গৃহবধুর বাবা সেখ মতিয়ার খান বলেন ২০১৭ সালের ২০শে মে তার মেজ মেয়ে নার্গিসের সাথে সহিদুল্লার বিয়ে হয়। তার দাবি বিয়ের সময় জামাই সম্পর্কে সমস্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের দাবিমত সমস্ত কিছুই দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান বিয়ের পর কয়েকমাস সব ঠিকঠাক চললেও তারপরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও টাকার দাবি জানাতে থাকে। সাধ্যমত তাদের চাহিদা পূরণ করলেও, দিনকে দিন দাবি বেড়েই চলেছিল। বছর দেড়েক আগে মেয়ের একটি পুত্রসন্তান জন্মানোর পর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। তার অভিযোগ গত ২৬ শে ডিসেম্বর নার্গিস তাকে ফোন মারফত জানায় বাপের বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা আনার জন্য চাপ দিচ্ছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ২৮শে ডিসেম্বর মেয়ে জানায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। ২৯ শে ডিসেম্বর জামাই সহিদুল্লা জানায় অসাবধানতাবশত রান্না করার সময় নার্গিসের গায়ে আগুন লেগে গেছে। তাকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অভিযোগ পরিকল্পিত ভাবে তার মেয়ের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মতিয়ার রহমান খান এর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা