ঝুম্পা,শুভময়,রাহুলদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা : ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে।আর পাঁচটা পড়ুয়ার মতোই মধুমিতা,সুদীপা,দীপ,রাহুরাও নতুন শ্রেণীতে উঠেছে।শেষ পরীক্ষায় ওদের কেউ পেয়েছে ৯০ শতাংশ নাম্বার আবার কেউ পেয়েছে ৭৫ শতাংশ নাম্বার।তবে ওদের জীবনের লড়াইটা আর পাঁচটা পড়ুয়ার থেকে একটু অন্য রকমের।কারুর বাড়িতে অর্থাভাবে জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো,আবার কেউ ভোরে দুধ বিক্রি করে নিজের পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি সংসারের হাল নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।তবুও শিক্ষার আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে চালিয়ে যাচ্ছে অদম্য লড়াই।গ্রামীণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের এমনই বেশ কিছু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পড়ুয়ার লড়াইয়ে সাথী হয়ে এগিয়ে এসেছে আমতার উদংয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।সংস্থাটির পক্ষ থেকে শিক্ষায় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণীর দু’একটি বই ও খাতা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও কিনতে হয় ইতিহাস, ভূগোল, জীবন বিজ্ঞান ও ভৌত বিজ্ঞান বই।সাথে প্রয়োজন হয় অনেক খাতার।স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুঃস্থ পড়ুয়াদের হাতে সেইসব পাঠ্যপুস্তক ও খাতা তুলে দেওয়া হচ্ছে।সংস্থার সম্পাদক তাপস পাল জানান,ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সূত্র মারফত তাঁদের প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষাসামগ্রীর আবেদন জানাচ্ছেন।তাঁদের সংস্থার সদস্য-সদস্যারা সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছেন।সেই সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে তার প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই,বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী নিয়ে গিয়ে হাজির হচ্ছেন গ্রামীণ হাওড়া জুড়ে কাজ করা এই সংস্থাটির প্রতিনিধিরা।এমনকি রাহুল,মন্দিরা,শিউলির মতো বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীর জন্য ফ্রি-কোচিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।তাপস বাবু আরও জানান,সমাজের বিভিন্ন স্তরের বেশ কিছু মানুষের সহযোগিতাতেই এই কর্মকান্ড গ্রহণে তাঁরা সক্ষম হয়েছেন।উদয়নারায়ণপুর ব্লকের সোনাতলার ছাত্রী মধুমিতা দত্তের কথায়,নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে তার মা’য়ের পক্ষে কোনোভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।কিন্তু এই সংস্থাই তার পড়াশোনার সমস্ত বন্দোবস্ত করেছে এবং তাঁরাই উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহন করবেন।

আবার দশম শ্রেণীর সায়ন্তনী বাগের কথায়,বছর দু’য়েক আগে তার বাবা মারা গেলে মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালান।এই সংস্থাই তার ও তার বোন সৌমিলির পড়াশোনার এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর হয়েছে।সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বীশরাজ কুন্তী জানান,”ইতিমধ্যেই নতুন শিক্ষাবর্ষে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ২২ জন পড়ুয়ার হাতে তাদের প্রয়োজনীয় বই,খাতা,জ্যামিতি বাক্স ও পেন তুলে দেওয়া হয়েছে।আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরও প্রায় ৭-৮ জন বিদ্যার্থীকে বই তুলে দেওয়া হবে।”তিনি আরও জানান,তাঁদের সংগঠন গত দু’বছর ধরে জেলার প্রান্তিক পড়ুয়াদের নিয়ে কাজ করছে।মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করা বহু অভাবী মেধাবীর পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংস্থা।ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপের।বেশ কিছু পড়ুয়ার জন্য ফ্রি-কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এর পাশাপাশি দুঃস্থ-মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘পাঠবৃত্তি’ নামক স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।আগামী আগস্টে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে এউ বৃত্তি তুলে দেওয়া হবে।এর পাশাপাশি উদং-ফতেপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি দোকানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘বুকব্যাঙ্ক’।ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রয়োজন মতো বিভিন্ন রেফারেন্স,প্রবেশিকা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বই সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে পড়তে পারবে।এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সোনামুই ফতে সিং নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দয়াময় ভট্টাচার্য।তিনি বলেন,”বহু পড়ুয়ার চোখে স্বপ্ন থাকে অনেক বড়ো হওয়ার।কিন্তু,আর্থিক অনটনের কারণে বহু মেধাই হারিয়ে যায় অতল গভীরে।তেমনই পড়ুয়াদের স্বপ্ন দেখাতে ও সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে এই সংস্থার প্রয়াস সত্যিই অনবদ্য।”

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা