উলুবেড়িয়ায় ফের আরও একটি পঞ্চায়েত হারানোর পথে বিজেপি

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মতো বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে গ্রামীণ হাওড়াতেও একের পর এক পঞ্চায়েত হাত ছাড়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। আরও একটি পঞ্চায়েত হারানোর পথে বিজেপি। মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার বানীবন গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। জানা গেছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৪ আসনবিশিষ্ট বানীবন গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৩ টি আসন পেয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল বিজেপি। ১০ টি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ও একটি ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের অধীনে। গত আগস্ট মাসে ৪ বিজেপি সদস্যা অপর্ণা মন্ডল, অঞ্জনা মন্ডল, চঞ্চলা পাত্র ও কণিকা কাঁড়ার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। বিস্তারিত জানতে নীচে পড়ুন…

পাশাপাশি, ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্য সামাদ মোল্লা ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেয়। ফলে বানীবন গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এরপরই গত ২৬ শে অগাস্ট উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের বিডিওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। অনাস্থা রুখতে হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল বিজেপি। সেইসময় হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়েছিল বানীবন গ্রাম পঞ্চায়েতের অনাস্থা প্রস্তাবের উপর কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছে। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াই মাস। মঙ্গলবার বিজেপি পরিচালিত বানীবন গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। ভোটাভুটিতে অংশ নেন পঞ্চায়েতের ২৪ জন সদস্য। ভোটাভুটিতে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫-৯ এ বিজেপিকে পরাজিত করে। এর জেরে বানীবন অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ড গঠন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। মঙ্গলবার ভোটাভুটির পরই উচ্ছাসে ফেটে পড়েন বানীবন অঞ্চলের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

এদিন উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া উত্তর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সেখ আবদুল্লাহ, বানীবন অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কৃষ্ণপদ ভুঁইয়া, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিজিৎ অধিকারী, সেখ আজিজুল সহ অন্যান্যরা। উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তপন চক্রবর্তী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসে আসছেন। সেরকমই স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে বানীবনের ৫ পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। ১৪ গ্রাম পঞ্চায়েত বিশিষ্ট উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার ১৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েতই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। কেবলমাত্র তুলসীবেড়িয়া অঞ্চলে বিজেপির বোর্ড। যদিও হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি রমেশ সাঁধুখার অভিযোগ, পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিজেপি সদস্যদের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দানে বাধ্য করা হচ্ছে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা