রাণীহাটির অলোকের চা’য়ে মজে বাচ্চা-বুড়ো, স্বাদ নিতে ভিড় জমান বহু দূর-দূরান্তের মানুষও

নিজস্ব সংবাদদাতা : চা নিয়ে বাঙালির চর্চার শেষ নেই। সে বাংলার প্রসিদ্ধ টেমি টি হোক কিমবা পাড়ার মোড়ে চায়ের আড্ডায় বসে চা-ওয়ালার দেশের মসনদে বসার কাহিনী আওড়ানোই হোক। তার উপর লকডাউনে নতুন সংযোজন চা-কাকু। বাঙালি জীবনের অন্তরঙ্গ সঙ্গী চা। সেই চা’য়ের টানেই কেউ সাইকেল চালিয়ে আবার বা বাইক চেপে ৮-১০ কি.মি পথ অতিক্রম করে ‘অলোকের চা’য়ের জন্য ছুটে আসেন। শুনতে গল্প মনে হলেও আদতে সেটাই ঘটে। এক বা দু’বছর নয় দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা-রাণীহাটি রোডের ধারে রাণীহাটিতে চা বেচছেন অলোক মন্ডল।

তাঁর চায়ের স্বাদের খ্যাতি সুদূরবিস্তৃতি লাভ করেছে। আর তার টানেই বহু দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন এক কাপ চায়ে চুমুক দিতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা সবসময়ই দোকানের সামনে ভিড় লেগে থাকে। আগে টাকা দিলে তবেই মেলে চা। স্থানীয় মানুষ তো রয়েইছেন, পাশাপাশি আমতা-রাণীহাটি রোডের উপর দিয়ে যাওয়া গাড়ির ড্রাইভার, বহু যাত্রীও স্বাদ ছাড়তে নারাজ। তাই মাঝপথেই নেমে পড়েন ‘অলোকের চা’এর স্বাদ নিতে। লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দোকান। সবেমাত্র দু’দিন দোকান খুলেছে। চা করতেই করতেই ছোটো গাববেড়িয়ার বাসিন্দা অলোক মন্ডল জানালেন, “দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে আমি এই দোকান চালাচ্ছি। কেন জানিনা আমার হাতের চা খেয়ে মানুষ খুব তৃপ্ত হন। বহু দূর থেকে চা’এর টানে মানুষ আসেন। প্রতিদিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেও বহু মানুষ দোকানে চা খেয়ে বাড়ি ফেরেন।”

ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দোকানের সামনে ব্যবস্থা করেছেন বাঁশের ব্যারিকেডের। তিনি আরও বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ১০০০-১২০০ কাপ প্রত্যহ বিক্রি হয়। শনিবার সেই সংখ্যাটা আরেকটু বেড়ে যায়। আগে ছোটো কাপ ৫ ও বড়োকাপ ১০ টাকা থাকলেও বাজারদর বাড়ায় ছোটোকাপ ৬ টাকা ও বড়োকাপ ১২ টাকা করেছি।” দোকানে অবশ্য মশগুল করে চা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমে পয়সা দিয়ে চা নিতে হবে। দাঁড়িয়েই চা খেতে হবে। অলোক মন্ডল একা এতো বড়ো দোকান সামলাতে পারেন না। সাথে রয়েছেন আরও দু’ই সহযোগী। সকাল থেকে সন্ধ্যা নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই অলোকের। দিনরাত কার্যত এক করে মানুষকে চা’খাইয়ে চলেন বছর পঞ্চাশের এই ব্যবসায়ী। আর সে-ই টানেই বহু দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বহু মানুষ।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা