প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে প্রতিমা গড়ছেন শ্যামপুরের ধনঞ্জয়

নিজস্ব সংবাদদাতা : গত পঁচিশ বছর দুই পা অসাড় তা সত্ত্বেও শুয়েই প্রতিমা গড়েন হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রাম বেলপুকুরের অমরাবতীর বাসিন্দা ধনঞ্জয় পাত্র। এদিন তার বাড়িতে গেলে দেখা যায় শুয়েই প্রতিমা গড়ছেন। ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ির পাশেই দুবছর পূজো করে আসছেন ধনঞ্জয়ের দুই দাদা মৃত্যুঞ্জয় ও সঞ্জয় পাত্র। এদিন ধনঞ্জয় বলেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন তার দুই পা সম্পূর্ন অসাড় হয়ে যায়। বাড়ি থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখার সাধ থাকলেও তা সম্ভব না হওয়ায় ২০১৭ সালে নিজেই ঠাকুর গড়ে বাড়িতে পূজা শুরু করেন। দাঁড়ানোর ক্ষমতা না থাকার জন্য আট ফুটের বড় প্রতিমা গড়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এদিন ধনঞ্জয়ের দাদা জানান সামান্য পারিবারিক আয় সত্বেও ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

পুজোর চারদিন অনুষ্ঠানের কথা ভেবেছেন। ভোগ বিতরণের কথা ভেবেছেন। ধনঞ্জয়ের প্রতিভা দেখে আশেপাশের প্রতিবেশী রাও পূজো করার জন্য এগিয়ে আসেন। প্রতিবেশী রাজদীপ মাইতি বলেন আমরা যখন খেলা ধুলা করতাম তখন ধনঞ্জয় দাদা বসে বসে খেলা দেখতেন, হাততালি দিতেন। আমরা খুব আনন্দ পেতাম। তিনি আরো বলেন নব্বই শতাংশ প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও ধনঞ্জয় দা যেভাবে মনের জোরে প্রতিমা তৈরি করছেন কোনো প্রশংসায় যথেষ্ট নয়। ধনঞ্জয়কে সরকারি সুযোগ সুবিধা পান কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে জানান এ বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। প্রতিবন্ধী কার্ডও নেই। ভাতাও পাননা। তার কথা প্রশাসনের কোনো কর্তারা জানতেন না। শ্যামপুর ২ বিডিও সুব্রত ঘোষ জানান “বিষয়টি তিনি জানতেন না। প্রতিভাবান প্রতিবন্ধী কেন ভাতা পাননি খোঁজ নেবো”। ব্লক সভাপতি জুলফিকার আলী মোল্লা ধনঞ্জয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা