সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ থেকে হাতাহাতি, তার‌ই মাঝে পড়ে মামার শাবলের ঘায়ে মৃত্যু হলো ভাগ্নির

নিজস্ব সংবাদদাতা : সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ। তার থেকে হাতাহাতি। তার‌ই মাঝে পড়ে মামার শাবলের ঘায়ে মৃত্যু হলো ভাগ্নির। ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়া থানা এলাকার সমরুখ সেখ পাড়ায়। বুধবার রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই তরুণী আসনারা খাতুনের (২৫)। আসনারার চার বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।বুধবার রাতেই আসনারার পরিবারের লোকজন উলুবেরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ মামা,মামি ও মামাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার তাদের উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক মামার দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের পাশাপাশি মামি এবং মামাতো ভাইয়ের 14 দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। শনিবার আসনারার দাদু অর্থাৎ মায়ের বাবা সেখ ইজারুলের সাথে তার ছেলে অর্থাৎ আসনারার মামা সেখ হাফিজুলের ঝামেলা শুরু হয়। অভিযোগ সেই সময় হাফিজুল তার বাবা ইজারুলকে মারধোর শুরু করে। বাবাকে বাঁচাতে যায় আসনারার মা সুরিয়া বেগম।

তখন সুরিয়া বেগমকেও মারধর করে কান ছিঁড়ে দেয় হাফিজুল। এই দৃশ্য দেখে মা এবং দাদুকে বাঁচাতে যায় আসনারা। অভিযোগ সেই সময় একটি শাবল দিয়ে আসনারার মাথায় আঘাত করে মামা হাফিজুল। সাথে সাথেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আসনারা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার রাতে সেখানেই আসনারার মৃত্যু হয়। তার পরেই তার পরিবারের লোকজন উলুবেড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে। আসনারার মাসতুতো দাদা সেখ সাবিরুল জানান দশ কাঠা জমি নিয়ে ঝামেলার সুত্রপাত। তিনি বলেন ছোট বেলা থেকেই আসনারা মামার বাড়িতে মানুষ হয়েছে। দাদু তার বিয়ে দিয়েছিল। দাদু আসনারাকে দশ কাঠা জমি দিয়েছিল। কিন্তু মামা হাফিজুল এর বিরোধী ছিল। সেই নিয়ে প্রায়শই ঝামেলা হতো। শনিবার সেইরকম ঝামেলার সময় মামা হঠাৎ করেই আসনারার মাথায় শাবলের আঘাত করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন দশ কাঠা জমিকে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনা ঘটে যাবে ভাবতেই পারিনি।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা