লকডাউনের জেরে গ্রামীণ হাওড়ায় কমেছে দূষণ, সহজে দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির

ড. সৌরভ দোয়ারী : লকডাউনের জেরে ভারতের ৯০টি শহরে ব্যাপক হারে দূষণের মাত্রা কমেছে। রাজধানী দিল্লি কিমবা মুম্বাইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে দূষণ কমার পরিসংখ্যান থেকে অবাক হয়ে গিয়েছেন তাবড় পরিবেশবিদরাও। বড়ো শহরগুলির পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন জেলাতেও দূষণের মাত্রা একধাক্কায় অনেকটা কমেছে। যার অন্যতম উদাহরণ গ্রামীণ হাওড়া। গ্রামীণ হাওড়ায় রয়েছে ধূলাগড়, উলুবেড়িয়ার মতো বড়ো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। শ্যামপুরে রয়েছে কয়েকশো ইটভাটা।

এর পাশাপাশি, জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন ব্লকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যান চলাচল করে। লকডাউনের ফলে সমস্ত কিছুই প্রায় বন্ধ। যার ফলে এই সুযোগে বাতাসে দূষণের মাত্রা হু-হু করে কমছে। বাতাসে ভাসমান কণা থেকে ক্ষতিকারক গ্যাস সবের পরিমাণ সহনশীল মাত্রার নীচে নেমে গেছে। দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির সাথে পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তার সুনির্মল রূপ। পাখিরা মুক্ত বাতাসে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তারা যেন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। পাখিরা এতদিন অস্ফুট স্বরে বলত – “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর”।

সেই আওয়াজ যেন এতদিনে শুনতে পেয়েছে প্রকৃতি। খোলা আকাশে যেন অরণ্য ফিরে পেয়েছে পাখিরা। নেই নগরের চেনা কোলাহল, পাখিদের কলকাকলিতে আকাশ – বাতাস তাই নির্মল, পরিবেশ শান্ত-সুধীর।কাক, কোকিলের মতো চেনা পরিচিত বিভিন্ন পাখির পাশাপাশি মনুষ্য বসতি থেকে কার্যত হারিয়ে যেতে বসা বেশ কিছু প্রজাতির পাখিরও দেখা মিলছে।

যেমন বাড়ির আশেপাশেই কণ্ঠী ঘুঘু, ব্লিথের রিড ওয়ার্বলারদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে যা আগে শান্ত ফাঁকা জায়গাতেই বেশী দেখা যেত। লকডাউনে ঘরে থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিভিন্ন মানুষের বাড়ির উঠানে কমলা দামার মত লাজুক পাখিও আজ হাজির হচ্ছে। প্রায় রোজই গ্রামীন হাওড়ার আকাশ দিয়ে বিকেলের দিকে খয়রা কাস্তেচরাদের উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। চাষের জমির আশপাশে বহালতবিয়তে দলে দলে সোনালী শৃগালরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এভাবেই প্রকৃতি স্বমহিমায় ক্রমশ স্বপ্রতিভ হয়ে উঠছে।

লেখক বিশিষ্ট গবেষক ও পরিবেশকর্মী

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা