জেনে নিন দেবী জগদ্ধাত্রী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য এবং ১৪২৬ সনের জগদ্ধাত্রী পূজার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি

নিজস্ব সংবাদদাতা : হিন্দু মতে জগদ্ধাত্রী দেবী হলেন দুর্গার অপর রূপ। উপনিষদে এনার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত পশ্চিমবঙ্গেই প্রচলিত।পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর,গুপ্তিপাড়া ও নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব জগদ্বিখ্যাত। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

জগদ্ধাত্রী দেবী ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তার হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ; গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পৃষ্ঠে দণ্ডায়মান। দেবীর গাত্রবর্ণ উদিয়মান সূর্যের ন্যায়। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বরিশালে প্রাপ্ত খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের জগদ্ধাত্রী মূর্তি, খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে শূলপাণি রচিত গ্রন্থে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ ও কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের পূর্বে নদিয়ার বিভিন্ন মন্দির-ভাস্কর্যে দেবী জগদ্ধাত্রীর উপস্থিতি থেকে প্রমাণিত হয়, বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী আরাধনা কোনও অর্বাচীন প্রথা নয়।

ব্যুৎপত্তি জগদ্ধাত্রী শব্দের আভিধানিক অর্থ “জগৎ+ধাত্রী। জগতের (ত্রিভুবনের) ধাত্রী (ধারণকর্ত্রী, পালিকা)।” ব্যাপ্ত অর্থে দুর্গা, কালী সহ অন্যান্য শক্তিদেবীগণও জগদ্ধাত্রী। তবে শাস্ত্রনির্দিষ্ট জগদ্ধাত্রী রূপের নামকরণের পশ্চাতে রয়েছে সূক্ষ্মতর ধর্মীয় দর্শন।
মন্ত্র: ওঁ দূং শ্রীশ্রীমজ্জগদ্ধাত্রীদুর্গায়ৈ নমঃ
গায়ত্রী: মহাদেব্যৈ বিদ্মহে সিংহবাহিন্যৈ ধীমহি।
তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ।

কেন উপনিষদে উল্লিখিত একটি উপাখ্যান অনুসারে, একবার দেবাসুর সংগ্রামে দেবগণ অসুরদের পরাস্ত করলেন। কিন্তু তারা বিস্মৃত হলেন যে নিজ শক্তিতে নয়, বরং ব্রহ্মের বলে বলীয়ান হয়েই তাদের এই বিজয়। ফলত তারা হয়ে উঠলেন অহংকার-প্রমত্ত। তখন ব্রহ্ম যক্ষের বেশ ধারণ করে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। তিনি একটি তৃণখণ্ড দেবতাদের সম্মুখে পরীক্ষার নিমিত্ত রাখলেন। অগ্নি ও বায়ু তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও সেই তৃণখণ্ডটিকে দগ্ধ বা বিধৌত করতে পারলেন না। তখন দেবগণ ইন্দ্রকে যক্ষের পরিচয় জানবার নিমিত্ত প্রেরণ করলেন। ইন্দ্র অহংকার-প্রমত্ত হয়ে যক্ষের কাছে আসেননি, এসেছিলেন জিজ্ঞাসু হয়ে। তাই ব্রহ্মরূপী যক্ষ তার সম্মুখ হতে তিরোহিত হলেন। বরং তার সম্মুখের আকাশে দিব্য স্ত্রীমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন হৈমবতী উমা। উমা ব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে ইন্দ্রের জ্ঞানপিপাসা নিবৃত্ত করলেন।

ধ্যানমন্ত্র
জগদ্ধাত্রীর ধ্যানমন্ত্রে দেবীর যে রূপকল্পনা করা হয়েছে তা নিম্নরূপ: সিংহস্কন্ধসমারূঢ়াং নানালঙ্কারভূষিতাম্।
চতুর্ভূজাং মহাদেবীং নাগযজ্ঞোপবীতিনীম্।।
শঙ্খশার্ঙ্গসমাযুক্তবামপাণিদ্বয়ান্বিতাম্।
চক্রঞ্চ পঞ্চবাণাংশ্চ দধতীং দক্ষিণে করে।।
রক্তবস্ত্রাপরিধানাং বালার্কসদৃশীতনুম্।
নারদাদ্যৈর্মুনিগণৈঃ সেবিতাং ভবসুন্দরীম্।।
ত্রিবলীবলয়োপেতনাভিনালমৃণালিনীম্।
রত্নদ্বীপে মহাদ্বীপে সিংহাসনসমন্বিতে।
প্রফুল্লকমলারূঢ়াং ধ্যায়েত্তাং ভবগেহিনীম্।।

১৪২৬ সনের জগদ্ধাত্রী পূজার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি সপ্তমী: বাংলা তারিখ: ১৫ কার্তিক ১৪২৬, শনিবার। ইং তারিখ: ০৩/১১/২০১৯।সময়: রাত্রি ১১টা ০১ মিনিট থেকে।সপ্তমী তিথি শেষ: বাংলা তারিখ: ১৬ কার্তিক ১৪২৬, রবিবার।ইং তারিখ: ০৪/১১/২০১৯। সময়: রাত্রি ০২টো ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন ৯টা ২৮ মিনিট মধ্যে প্রথম কল্পীয় সপ্তম্যাদি কল্পে সপ্তমী বিহিত শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী পূজা প্রশস্তা । অষ্টমী: বাংলা তারিখ: ১৬ কার্তিক ১৪২৬, রবিবার।ইং তারিখ: ০৪/১১/২০১৯।সময়: রাত্রি ০২টো ৫৬ মিনিট থেকে।অষ্টমী তিথি শেষ: বাংলা তারিখ: ১৭ কার্তিক ১৪২৬, সোমবার।ইং তারিখ: ০৫/১১/২০১৯।সময়: ভোররাত্রি ০৪টো ৫৭ মিনিট পর্যন্ত।পূর্বাহ্ন ৯টা ২৯ মিনিট মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে সকাল ৭টা ৯ মিনিট মধ্যে পুনরায় সকাল ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে ৯টা ২৯ মধ্যে প্রথম কল্পীয় সপ্তম্যাদিকল্পে অষ্টমী বিহিত শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী পূজা প্রশস্তা। নবমী: বাংলা তারিখ: ১৮ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার। ইং তারিখ: ০৫/১১/২০১৯।সময়: ভোররাত্রি ০৪টে ৫৭ মিনিট থেকে অহোরাত্রি। শ্রীশ্রীদুর্গা নবমী ব্রতম, অক্ষয় নবমী ব্রতম। শ্রীশ্রীগৌরী নবমী ব্রতম।পূর্বাহ্ন ৯টা ২৯ মিনিট মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে সকাল ০৭টে ১০ মিনিট মধ্যে পুনরায় সকাল ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে সকাল ৯টে ২৯ মিনিট মধ্যে প্রথম কল্পীয় সপ্তম্যাদি কল্পে নবমী বিহিত শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী পূজা প্রশস্তা। দ্বিতীয় কল্পীয় ত্রিকাল বিহিত শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী পূজা।নবমী তিথি শেষ: বাংলা তারিখ: ১৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার।ইং তারিখ: ০৬/১১/২০১৯।সময়: সকাল ০৭টে ২২ মিনিট পর্যন্ত। দশমী: বাংলা তারিখ: ১৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার। ইং তারিখ: ০৬/১১/২০১৯।সময়: সকাল ০৭টে ২২ মিনিট থেকে।সকাল ০৭টে ২২ মিনিট থেকে ৯টে ২৯ মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে সকাল ৭টে ২২ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৩৪ মিনিট মধ্যে প্রথম কল্পীয় সপ্তম্যাদি কল্পে শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী দেবীর দশমী বিহিত পূজা ও বিসর্জন প্রশস্তা।দশমী তিথি শেষ: বাংলা তারিখ: ২০ কার্তিক ১৪২৬, বৃহস্পতিবার।ইং তারিখ: ০৭/১১/২০১৯।সময়: সকাল ০৯টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা