উরি হামলার পাঁচ বছর, আজও হাওড়ার গ্রাম জুড়ে উজ্জ্বল ‘বীরগতি প্রাপ্ত’ গঙ্গাধরের স্মৃতি

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০১৬ সালের ১৮ ই সেপ্টেম্বর। জম্মু-কাশ্মীরের বারমুলা জেলার উরি সেক্টরে তখনও ঠিকমতো ভোরের আলো ফোটেনি। বিহার রেজিমেন্টের ৬ নং ইউনিটের বেশিরভাগ সদস্যই তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎই গ্রেনেডের শব্দে অশান্ত হয়ে উঠল পাহাড় লাগোয়া সেনা ছাউনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি গ্রেনেড ছুঁড়তে লাগল জঙ্গিরা। ঘুমচোখেই প্রত্যুত্তর দিতে শুরু করল ভারতমাতার তরতাজা যুবকরা।

এই লড়াইয়ে চার জঙ্গিকে নিকেশ করে দেশমাতার স্বার্থে আত্মবলিদান দিলেন ভারতমাতার ১৮ জন লড়াকু সন্তান। সে-ই ১৮ জন বীর সন্তানের মধ্যে একজন হাওড়ার বছর বাইশের গঙ্গাধর দোলুই। গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রাম যমুনাবালিয়া। সেই গ্রামেরই এক ছোট্ট পরিবারে গঙ্গাধরের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পরিবারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। ছোটো থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল এই মেধাবী পড়ুয়া।

ঘরের উপর ছাউনি থাকলেও বৃষ্টি এলে সেখান দিয়ে অঝোরে জল পড়ত। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন গঙ্গাধর। চোখে ছিল দেশসেবার স্বপ্ন। সেই ইচ্ছে থেকেই মাত্র ২০ বছর বয়সেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের ৬ নং ইউনিটে যোগ দিলেন যমুনাবালিয়া গ্রামের এই বীর সন্তান। উরি সেক্টরে হামলার মাসখানকে আগেই সেখানে পোস্টিং নিয়ে যান গ্রামীণ হাওড়ার প্রত্যন্ত কৃষক পরিবারের এই কৃতি সন্তান।

২০১৬ থেকে ২০২০ — মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। সেদিনের অখ্যাত গ্রাম গঙ্গাধরের হাত ধরে আজ জাতীয় স্তরে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামে বসেছে গঙ্গাধরের মর্মর মূর্তি। গ্রাম শুধু নয় বাংলার বহু মানুষই মনে রেখেছেন দেশমাতার এই সন্তানকে ও তাঁর বীরত্বকে। আবার অনেকে কালের নিয়মে ভুলেই গেছেন। কিন্তু, সন্তানহারা মা’ আজও তাঁর বড়ো ছেলের বীরত্বের জন্য গর্বিত। বড়ো ছেলের মতো ছোটো ছেলেও দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করুক চান শিখাদেবী। এভাবেই শত মা’য়ের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয় শত শত গঙ্গাধররা। আর তারাই দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে সগর্বে বলে ওঠে ‘জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম!’

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা