শতায়ু দাদুর মৃত্যুতে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে শ্মশানমুখী নাতির দল, অদ্ভুত ঘটনা উলুবেড়িয়ার গ্রামে

By নিজস্ব সংবাদদাতা

Published on:

নিজস্ব প্রতিবেদক : শতায়ু দাদুর মৃত্যুকে স্মরণীয় করে রাখতে ঘটা করে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে শ্মশানযাত্রার আয়োজন করলেন নাতিরা। এমনই অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। সূত্রের খবর, বুধবার একশো ছ’বছর বয়সে পরলোক গমন করেন বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রতিকান্ত ভৌমিক। রতিকান্ত বাবুর মৃত্যুকে স্মরণীয় করতে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে শ্মশান যাত্রার আয়োজন করেন তাঁর নাতিরা।

তাতে যোগ দেন স্থানীয় মানুষও। এমনকি মহিলারাও শেষযাত্রায় পা মেলান। রতিকান্ত বাবুর নাতিরা জানান, দাদু দীর্ঘদিন গর্বের সাথে বেঁচে ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুকে স্মরণীয় করে রাখতে ও সম্মান জানাতে এই আয়োজন। তাঁদের দাবি, ব্যান্ডপার্টির মাধ্যমে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ অর্থাৎ হরিধ্বনি দেওয়া হচ্ছিল। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাস দু’য়েক শয্যাশায়ী থাকার পর বুধবার দুপুর ১২ টা ৫০ নাগাদ তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল একশো ছ’বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন পরিবার, আত্মীয় ও স্থানীয়রা।

ভৌমিক পরিবারের সদস্যরা জানান, শতায়ু দাদু বহু ইতিহাসের সাক্ষী। এমনকি তাদের দাদু স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজীর সাথেও জড়িত ছিলেন বলে তাঁরা জানান। তাই শতায়ু দাদুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে একটু অন্যভাবে অনুষ্ঠিত করতে উদ্যোগী হয় নাতিরা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। দ্রুত ব্যান্ডপার্টির দলকে ডাকা হয়। পরিবারের সদস্য পলাশ ভৌমিক বলেন, আমরা দ্রুত ব্যান্ড পার্টির আয়োজন করি। খোল-করতালও ছিল। মরদেহ কাঁধে নিয়ে এগোতে থাকেন নাতি ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের পিছনে পিছনে হাঁটতে থাকেন বহু মানুষ। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী খই ছড়ানো হয়।

অন্যদিকে, মাইকে বাজানো হতে থাকে মিউজিক। তাঁদের বক্তব্য, এই মিউজিকে হরিনাম সংকীর্তন বাজানো হচ্ছিল। এভাবেই রতিকান্ত বাবুর মৃতদেহ নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দামোদর তীরবর্তী বোয়ালিয়ার বাড়বেড়িয়া বিজিপুকুর এলাকার শ্মশানে পৌঁছান। মৃতের ছেলে অশোক ভৌমিকের কথায়, বাবার একশোর উপর বয়স হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে উল্লাস, উন্মাদনায় পাড়া-পড়শি, পরিবারের সদস্যরা ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে নাম-সংকীর্তনের মাধ্যমে তাঁকে শ্মশানে এনেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাবা খুবই ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। উনি বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ছিলেন। উনি নিরামিষাশী ছিলেন। অন্যদিকে শ্মশানযাত্রীদের বক্তব্য, ব্যান্ডপার্টির মাধ্যমে হরিনাম সংকীর্তন বাজিয়ে রতিকান্ত বাবুর মৃত্যুকে স্মরণীয় করে রাখা হল।