বাগনানে দিলীপ ঘোষ, নিহত বিজেপি নেতার পরিবারের হাতে তুলে দিলেন ৫ লক্ষের চেক

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাগনানের চন্দনাপাড়ায় দুষ্কৃতিদের গুলিতে নিহত বিজেপি নেতা কিঙ্কর মাঝির বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সোমবার বেলায় দিলীপ ঘোষ বাগনানের চন্দনাপাড়ায় কিঙ্কর মাঝির বাড়িতে যান। নিহত বিজেপি নেতার পরিবারের সাথে দেখা করে বেড়িয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন খড়্গপুরের সাংসদ।

বামপন্থী গণ সংগঠনগুলির ডাকে আসন্ন ২৬ শে নভেম্বরের দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সিপিআইএম নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য মাঝে মাঝে বন্ধ ডাকে। এই বন্ধ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কোনো মাথাব্যথা নেই। এই বন্ধ করে করে পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ হয়েছে। বাংলার মানুষ এর থেকে মুক্তি চায়, তাই তারা বিগত লোকসভা নির্বাচনে একটিও আসন পায়নি।”

তিনি বলেন, “সেই বন্ধ কালচার চলছে। এই পার্টি গুলো যতদিন থাকবে এই কালচার চলবে। আমার মনে হয় আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন সরকারের পলিসি হয়েছে হিংসার মাধ্যমে বিরোধীদের আটকাবার। সেই কারণে রাজ্যের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছে। কিছুদিনের মধ্যেই তার প্রতিফলন হবে।”

বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়ের নিমন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সফরে বেরিয়েছে, সফর শেষ করেই যাবো। অনেক কর্মীদের বাড়িতেই খেতে যাই। ওনার বাড়িতেও যাবো।” কোভিড প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, “আমাদের রাজ্যে সব থেকে বেশি করোনা আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন। জনসংখ্যা অনুযায়ী পরীক্ষা কম হচ্ছে।” তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে সংক্রমনের রেট ৯; যেটা অন্যান্য রাজ্যে ৪.৫। সেটা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।”

তাঁর অভিযোগ, “যে স্পুটনিক ভ্যাকসিন এসেছে তা সারা দেশে প্রয়োগ হচ্ছে। এই সরকারকেও বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ সেন্টার হয়েছে, কিন্তু কোনো রোগীর নাম দেওয়া হয়নি। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গের লোক এর সুবিধা পাচ্ছে না। কারণ রাজ্য সরকার চাইছে না।” তিনি বলেন, “যেমন আয়ুষ্মান যোজনা বা কৃষক সম্মান নিধি বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, ঠিক তেমনি স্পুটনিক ভ্যাকসিন এর যে স্যাম্পেল তার থেকেও বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা খরচ করে এই সুবিধা দিচ্ছে। তার থেকে আমরা কেন বঞ্চিত হবো। আমাদের কি বাঁচার অধিকার নেই। মুখ্যমন্ত্রীর বাঁকুড়া সফরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন জঙ্গলমহল থেকে তৃনমূল দলটা উঠে গেছে। উনি দেখতে গেছেন দলটা আছে কিনা। যখন যাওয়ার প্রয়োজন ছিল, কাজ করার ছিল করেননি। তাই মানুষ ওনাদের ভুলে গেছে। আর কিছু করে লাভ হবেনা, কারণ ওনাদের দল ছেড়ে মানুষ বিজেপি তে চলে আসছে।

তিনি আরো বলেন আমরা বলেছিলাম ১৯শে হাফ আর ২১শে সাফ। ১৯শে র নির্বাচনে ২১ বলেছিলাম ১৮ টা পেয়েছি। এবারে অমিত শাহ জি বলে গেছেন ২০০ র বেশি সিট এর কথা, তার কথামত সিট নিয়ে আমরা সরকার গঠন করবো। এদিন দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জোনাল অবজারভার অনুপম মল্লিক, হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপি সভাপতি শিবশঙ্কর বেজ সহ অন্যান্যরা।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা