দূষণ মুক্ত নদীর জল সহ একাধিক দাবিতে, রূপনারায়ণ নদ বাঁচাও নামক সংগঠনের উদ্যোগ শুরু হলো পদযাত্রা

নিজস্ব সংবাদদাতা : দূষণ মুক্ত নদীর জল এর প্রতিবাদে, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে হাওড়ার রূপনারায়ণ নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পাঁচদিন ধরে পদযাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ করলো রূপনারায়ণ নদ বাঁচাও নামে একটি সংগঠন। বর্তমানে বিভিন্ন নদীতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় চরের। ফলত সমস্যায় পড়েছেন কৃষক, জেলে থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। তার পাশাপাশি জল দূষণ চলছে অহরহ। ফলত ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের‌ও। ছাব্বিশে নভেম্বর শুরু হ‌ওয়া এই পদযাত্রা শেষ হবে তিরিশে নভেম্বর। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন এই পদযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নদী বিশেষজ্ঞরাও।

শীলাবতী ও দ্বারকেশ্বর নদীতে থেকে বেরিয়ে ঘাটাল থেকে শুরু হয়েছে এই রূপনারায়ণ নদ। পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি হয়ে হাওড়ার আমতা দুই নং ব্লকের উত্তর ভাটোরা দ্বীপাঞ্চল হয়ে হাওড়ায় প্রবেশ করেছে পঁচাত্তর কিলোমিটার প্রবাহিত এই নদ। এর পর বাগনান ও শ্যামপুর পেরিয়ে গাদিয়াড়ায় গিয়ে হুগলি ও হলদি নদীর সাথে মিশেছে। ফলত এই তিন জেলার বহু মানুষ এই নদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ক্রমশ চড়া পড়ছে নদে। নদীর বিভিন্ন জায়গায় বড়ো বড়ো চড়া পড়ে যাওয়ায় ক্রমশ কমছে জলধারন ক্ষমতা। নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা জীবন জীবিকার উপর ক্রমশ প্রভাব পড়ছে। বাধ্য হয়ে জীবিকা পরিবর্তন করে দিন মজুরের কাজ নিয়েছেন বহু মৎস্যজীবী।

তাছাড়া প্রায় প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ছে নদের তীরবর্তী এলাকার মানুষ। নদীতে জলস্তর কমে যাওয়ার ফলে খাল গুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল‌ থাকছেনা। জলের অভাবে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই অবিলম্বে নদী সংস্কারের দাবিতে এই পদযাত্রা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। রূপনারায়ণের নদীর গতিপথে গোপীগঞ্জ, বেড়াল, বাকসী, মানকুর সহ বিভিন্ন জায়গায় চড় পড়েছে। শ্যামপুরের অনন্তপুরের কাগজ কলের বজ্র, কোলাঘাট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বজ্র পদার্থ রূপনারায়ণে মেশায় কমছে মাছের সংখ্যা।

মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীপথ পরিবহনের সাথে যুক্ত মানুষজন। নদী বাঁচাও কমিটির তরফে হাওড়া জেলার আহ্বায়ক পরেশ পাল বলেন শুধু রূপনারায়ণ নয় বহু নদীর‌ই এক‌ই অবস্থা। হাওড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া হুগলি ও দামোদরের‌ও সংস্থারের প্রয়োজন। ঘাটাল মাষ্টার প্ল্যান ও নিম্ন দামোদরের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরো বলেন সামগ্রিক ভাবে সমস্ত নদী বাঁচানো ও নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষজনের জীবন জীবিকা বাঁচানোই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। পাশাপাশি তাদের পক্ষ থেকে ড্রেজিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা