বন্ধ স্কুল-কলেজ, আমতার নিরীক্ষণাগারে বিজ্ঞানের হাতেকলমে পাঠ দিচ্ছেন রাকেশ, সৌভিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা : করোনা পরিস্থিতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাঝে একবার স্কুল খুললেও কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে ফের তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাঝে কেটে গেছে অনেকগুলো মাস। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডিও অতিক্রম করে চলেছে পড়ুয়ারা। কিন্তু, বহু পড়ুয়াই বিজ্ঞানের ল্যাবওয়ার্ক থেকে অনেক দূর রয়ে গেছে। বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে গেলেও তারা জানেই না পিপেট কোনটা, আর বুরেট কোনটা। কিমবা কীভাবে মাইক্রোস্কোপ সেটিং করতে হয়। স্কুল বন্ধের জেরে পড়ুয়ারাও ল্যাবওয়ার্ক বঞ্চিত। এবার পড়ুয়াদের হাতেকলমে বিজ্ঞান শিক্ষার পাঠ দিতে এগিয়ে এসেছে আমতার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’। বিস্তারিত জানতে নীচে পড়ুন…

সংগঠনের পক্ষ থেকে আমতার উদং-ফতেপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় চালু করা হয়েছে সুচিন্তিকা দাস স্মৃতি নিরীক্ষণাগারে। এই নিরীক্ষণাগারে নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছেন সংগঠনের সদস্য শিক্ষক রাকেশ মন্ডল, শিক্ষক সৌভিক চৌধুরীরা। তাঁরা পড়ুয়াদের হাতে ধরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন মাইক্রোস্কোপ কীভাবে সেটিং করতে হয়, ডিসেকশন কীভাবে করতে হয়। রসায়নবিদ্যার কৃতি ছাত্র সৌভিক এখন পেশায় শিক্ষক। বুধবার সৌভিক ছাত্রছাত্রীদের টাইট্রেশন করে দেখালেন। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের বোঝালেন বিকার, পিপেট, বুরেটের ব্যবহার। এই প্র‍্যাক্টিক্যাল ক্লাস নিয়ে পড়ুয়ারাও রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। বহু দূরদূরান্ত থেকে ক্লাস করতে আসছে পড়ুয়ারা।

একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শিউলি চক্রবর্তীর কথায়, ল্যাবওয়ার্কের কারণেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে ছিল। ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ল্যাব কী তা-ই দেখিনি। কিন্তু এই সংগঠন যেভাবে ল্যাবের ক্লাস করার ব্যবস্থা করেছে তা সত্যিই আমাদের কাছে অনেক উপকারী। সংগঠনের সহ-সভাপতি পেশায় শিক্ষক রাকেশ মন্ডল বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি চেতনা ও ভালোবাসা গড়ে তোলা। আর তার জন্যই হাতেকলমে বিজ্ঞানের পাঠ দেওয়া প্রয়োজন। সেখান থেকেই আমাদের এই ভাবনা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা এই ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য সব পরিকাঠামো এখনই গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তবে আস্তে সবই করা হবে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা