উল্টপুরাণ! উলুবেড়িয়ায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ পঞ্চায়েত সদস্যের, বদলে গেল পঞ্চায়েতের সদস্য বিন্যাস

নিজস্ব সংবাদদাতা : বছর খানেক আগেই গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লিখিয়েছিলেন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান প্রশান্ত মন্ডল। তার জেরে বিজেপির হাত থেকে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা গিয়েছিল তৃণমূলের দখলে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ঘরওয়াপসি। প্রশান্ত মন্ডল তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। আর তারই জেরে ফের বদলে গেল গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বিন্যাস। জানা গেছে, উলুবেড়িয়া-২ ব্লকের বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৬ টি আসন। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি ১০ টি আসন দখল করেছিল। তৃণমূল পেয়েছিল ৪ টি আসন। সিপিআইএম ও নির্দল একটি করে আসন পেয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই বদলে যায় চিত্রটা। গেরুয়া শিবির ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রশান্ত মন্ডল ও উপপ্রধান দীপিকা মাইতি। পাশাপাশি, সিপিআইএম ও নির্দল সদস্যও ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেয়। তখন তৃণমূল ও বিজেপির সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৮। অনাস্থা আনে তৃণমূল। বিস্তারিত জানতে নীচে পড়ুন...

ভোটাভুটির দিন এক বিজেপি সদস্য অনুপস্থিত থাকায় তৃণমূল বেশি ভোট পায়। বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই প্রশান্ত মন্ডল বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে ষোলো আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বাধ সেধেছে আইন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বোর্ডের মেয়াদ আড়াই বছর না হলে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায়না। সবে ১৩ মাস হওয়ায় বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যাবে না বলে জানা গেছে। এবিষয়ে হাওড়ার গ্রামীণ জেলা বিজেপির সভাপতি অরুন উদয় পাল চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টা নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সাথে কথা বলছি। প্রয়োজনে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারি। প্রশান্ত তৃনমূলে গেলেও ওদের মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে পুনরায় আমাদের দলে ফিরে এসেছে। এদিকে প্রশান্ত মন্ডল তৃণমূল ছাড়ার পরই স্থানীয় তৃণমূল শিবিরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক নির্মল মাজির উপরেই দায় চাপিয়েছেন উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রসের সভাপতি তপন চক্রবর্তী। তার দাবি, বিধায়ক কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই প্রশান্তকে দলে ঢুকিয়েছিলেন। ফরে এর দায় বিধায়কেরই। বিধায়কের কার্যকলাপে অনেকেই অসন্তুষ্ট। তিনি উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলে দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এ প্রসঙ্গে নির্মল মাজিকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। ম্যাসেজেরও কোনো উত্তর দেয়নি।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা