চিকিৎসার গাফিলতির কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে হেনস্থা, গ্রেফতার ১২ জন

নিজস্ব সংবাদদাতা : চিকিৎসার গাফিলতির কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসককে হেনস্থা ও পুলিসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলো রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। ঘটনায় পুলিশ বারোজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি চোদ্দটি মোটর সাইকেল বাজেয়াপ্ত করেছে । শুক্রবার অভিযুক্তদের  উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের চোদ্দ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে মৃত মহিলার টগরী মান্না (৩২) উদয়নারায়ণপুরের বড়দা রঘুদেবপুরের বাসিন্দা ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ টগরী মান্না বাড়ির রান্নাঘরে রান্না করার সময় হঠাৎ তার ডান হাতের বুড়ো আঙুলে কিছু কামড়ে দেয়। বাড়ির লোকজন গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য  আমতা গ্রামীণ  হাসপাতালে ভর্তি করে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ হাসপাতালে ভর্তি করার পর বেশ কিছুক্ষণ কোন রকম চিকিৎসা হয়নি এবং ভর্তি করার ঘন্টা খানেক পরেই টগরী দেবী মারা যায় । রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ ভর্তি করার পর শুধু একবার রক্ত পরীক্ষা করা ছাড়া কিছুই করেনি। মৃত্যু হওয়ার মিনিট দশেক পরেই পরিবারের লোকজনের অনুমতি ছাড়া  পুলিশ এসে মৃতদেহটি নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মৃতদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে হেনস্থা করে । খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পুলিশের সাথে গোলমাল বাধে । এবং পুলিশের গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয় ও বেশ কয়েকটি পুলিশের সাথে হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে । পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এবং রোগীর বারোজন  আত্মীয়কে গ্রেফতার করে। হাসপাতাল চত্বর থেকে চোদ্দটি মোটর সাইকেল বাজেয়াপ্ত করে । হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে । পুলিশ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য পুলিশকে হস্তান্তর করে। পুলিশ মৃতদেহটি নিয়ে চলে আসার পর আত্মীয়রা হাসপাতালের কতব্যরত চিকিৎসককে হেনস্থা করে । খবর পেয়ে পুনরায় হাসপাতালে পুলিশ গেলে পুলিশকে ঠেলাঠেলি ও ইউনিফর্ম ছিঁড়ে দেয়।

লাঠি চালানোর ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ । আমতা হাসপাতালের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক গৌতম নন্দী বলেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি রোগী হাসপাতালে আসে এবং বলেন তাকে কিছুএকটা কামড়ে দিয়েছে। চিকিৎসার পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা রক্ত পরীক্ষা করতে পাঠাই । প্রথম রক্ত পরীক্ষায় কোন কিছু না পাওয়ায় চিকিৎসক এন্ট্রি ভেনাপ প্রয়োগ করেনি। মিনিট কুড়ি পর পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করতে পাঠায় । তার রিপোর্ট আসার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়। এর পরেই রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়। শুক্রবার আদালতে যাওয়ার পথে মৃত গৃহবধূর  এক আত্মীয় বলেন রোগী ভর্তি করার পর কোন রকম চিকিৎসা হয়নি । রোগী যখন ছটফট করছে   আমরা বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে ডাকতে গিয়েছিলাম । চিকিৎসক কিছুতেই রোগীর  কাছে যাচ্ছিল না । বারে বারে অনুরোধ করেছি আপনারা যদি না পারেন তাহলে অন্যত্র রেফার করুন। কিছুই করলো না । চোখের সামনে ছটফট করে মারা গেল। কিছু আত্মীয় উত্তেজিত হয়ে  গালাগালি করেছে ঠিক কথা । কিন্তু চিকিৎসককে ঠেলাঠেলি বা পুলিশকে কোনরকম ঠেলাঠেলি করা হয়নি।  

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা