হাওড়ার কদমতলার সাথে প্রণব বাবুর আত্মিকযোগ, ভারাক্রান্ত বসু পরিবার

বিশেষ সংবাদদাতা : তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটেছে হাওড়া কদমতলায়। কতজন আর মনে রেখেছে সে সব কথা? কত জনই বা জানেন এক সময়ের ইন্দিরার সেকণ্ড ইন কমান্ড তথা প্রধানমন্ত্রী পদযোগ্য প্রণবের জীবনের বেশিটাই কেটেছে হাওড়ার এঁদো গলিতেই। সেখান থেকেই রাজনৈতিক উত্থান। গমন দিল্লির পথে। সাজিয়েছেন জঙ্গিপুর। কিন্তু ভুলে জাননি কদমতলাকে। মনে রেখেছেন তাঁর প্রিয় ও কাছের মানুষদের। আজীবন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় ছিল সেই সব পরিবারের।

অন্যতম কদমতলার বসু পরিবার। পরিবারের সদস্য কল্পনা বসু জানালেন, “এই বাড়িতে ওনার বাবা এসে ভাড়া উঠেছিলেন। আমরা ওনাকে দাদু বলতাম। প্রণব বাবুর পড়াশোনা নিজের গ্রামের বাড়িতেই। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর চাকরি জীবন থেকে হয়ে যান হাওড়ার বাসিন্দা। স্কুলে চাকরি করতেন। ক্রমে পরিবারের সঙ্গে যোগ দেওয়া এই বাড়িতে। এখান থেকেই রাজনৈতিক জীবনে উত্থান। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর চলে যান দিল্লি। কিন্তু পরিবার তখনও এখানে। ওনার স্ত্রী’কে ওনাকে আমরা বৌদি বলতাম। নিজের কেউ নয় তবু তাঁর চেয়েও বেশি কিছু মনে হত। তারপর ধীরে ধীরে ওনারা চলে যান কলকাতার বেলগাছিয়ার ফ্ল্যাটে। দেখা সাক্ষাৎ কমেছে কিন্তু সক্ষতা কমেনি। ওঁর ছেলে মেয়ের সঙ্গেও আমাদের আত্মিক যোগ। এখনও যোগাযোগ রয়েছে। এমন দিনে আর কি বলি। বিশেষ শ্রদ্ধা রইল আমাদের তরফে। তবে সময়গুলো থেকে যাবে। সেই সময়টা পেরিয়ে গিয়েছে কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো তো থেকেই গিয়েছে। আমরা ভারাক্রান্ত। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি।”

বিপ্রদাস বন্দ্যোপাধ্যায় আবার আরও একটি বাড়ির কথা জানালেন। সেখানেও বেশ কিছুদিন ছিলেন প্রণববাবু। তাঁর কথায়, “কদমতলায় শ্রীরুপার সিনেমার গলিতে জগবন্ধু ভট্টাচার্যের বাড়িতেও উনি থাকতেন। সে বাড়িতে এখন আর কেউ তেমন থাকে না। অন্তত ওনার সম্পর্কে ওই বাড়িরতে থাকা নিয়েও কেউ কিছু বলতে পারবে না। আমরা জানি, আমরা ওখানে গিয়েছি আড্ডা মেরেছি। তবে বেশি সময় থেকেছেন কদমতলা পেট্রোল পাম্পের পাশের বাড়িতে। যদিও সেখানে এখন পেট্রোল পাম্প নেই। দেখলে বোঝা যাবে না। সময়ের সঙ্গে স্থানের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু ওই বাড়ি এখনও বর্তমান এবং পরিবারের সদস্যরাও ওনার সঙ্গে এখনও বেশ জড়িত।”

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা