পড়াশোনার ক্ষেত্রে ছাত্র ছাত্রীদের ভরসা এখন অনলাইন ক্লাসে

নিজস্ব সংবাদদাতা : করোনা মোকাবিলায় দীর্ঘ ২১ দিনের লকডাউনের জেরে স্কুল – কলেজ বন্ধ। ফলে বিপাকে পড়েছেন বহু পড়ুয়া – শিক্ষক-অভিভাবকরা। একদিকে সিলেবাসের চোখরাঙানি আর অন্যদিকে স্তব্ধ স্কুল, কলেজ। এমনকি কোচিং বা গৃহ শিক্ষকদের পড়ানোও বন্ধ। কবে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কিমবা ক্লাস চালু হবে – তা নিয়ে কেউ-ই নিশ্চিত নন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে ও সিলেবাস এগিয়ে নিয়ে যেতে ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে নিয়মিত বিশেষ ক্লাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও এবার অনলাইন পঠন – পাঠন চালু করেছে। পিছিয়ে নেই গ্রামীণ হাওড়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও। ইতিমধ্যে উলুবেড়িয়া কলেজ সহ একাধিক কলেজে অনলাইনে ক্লাস চালু হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এস.এম.এসের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জানানো হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পড়ুয়ারা কলেজ পোর্টালে গিয়ে নিজেদের আইডি, পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করে নির্দিষ্ট এসাইনমেন্ট ডাউনলোড করে পড়ছে। সরকারি বা বেসরকারি কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই শুধু নয়, মাধ্যমিক – উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, বেসরকারি স্কুলগুলিতেও এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্টাডি মেটেরিয়ালস ও মডেল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সেগুলি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পড়ুয়া কিমবা তার অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে স্কুলের শিক্ষক – শিক্ষিকারা। আমতা-২ ব্লকের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কথায়, “পড়ুয়াদের জন্য ইতিমধ্যেই আমাদের শিক্ষিকারা বিশেষ স্টাডি মেটেরিয়ালস তৈরি করছেন। তা শীঘ্রই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করে ছাত্রীদের পৌঁছে দেওয়া হবে। ছাত্রীদের হোয়াটসঅ্যাপ না থাকলে তার বাড়ির অন্যজনের ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। “আবার, আমতার সোনামুই হরিসভা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ খাঁ জানান, “আমি পড়ুয়াদের অভিভাবকদের কাছে টপিক ধরে সবিস্তারে বিভিন্ন প্রশ্ন – উত্তর পাঠিয়ে দিচ্ছি। “পিছিয়ে নেই কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকরাও। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অডিও কিমবা ভিডিও করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা। তার উপর ভিত্তি করে চলছে আলোচনা। এর পাশাপাশি, বিশেষ অ্যাপে ইন্সটল করেও চলছে পড়াশোনা। সেখানে ভিডিও কনফারেন্স করে ‘লাইভ’ ক্লাসে পড়ুয়াদের পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষকরা।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির এহেন উদ্যোগে খুশি শিক্ষার্থী মহলও। উলুবেড়িয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দীপেন্দু অধিকারীর কথায়, “কলেজ খুললেই সেমিস্টার। তাই তার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত হওয়াটা খুব প্রয়োজন। কিন্তু, এবার যা পরিস্থিতি তা সত্যিই কঠিন। তবুও অনলাইন পঠন – পাঠনের মধ্যে দিয়ে যতটুকু প্রস্তুত হওয়া যায় তার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা