কেরল থেকে পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু শ্যামপুরের বাস চালকের

নিজস্ব সংবাদদাতা : দূরপাল্লার ট্রেন ছাড়াও বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাস ভাড়া করে এরাজ্যে ফিরছেন। তাদের ফেরাতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাস আসছে। আবার এরাজ্য থেকেও বাস গিয়ে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। সেরকম ভাবেই ভিন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরাচ্ছিলেন পেশায় বাস চালক তথা গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুর থানার রাধাপুরের বাসিন্দ মহাদেব জানা। তবে তাঁর আর বাড়ি ফেরা হলনা। কেরল থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শ্যামপুরে ফেরার পথে বাসের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হল। সূত্রের খবর, লকডাউনের জেরে শ্যামপুরের প্রায় ৩৪ জন শ্রমিক কেরলে দীর্ঘদিন আটকে ছিলেন। তাদের ফেরাতেই গত ৩ রা জুন শ্যামপুর থানা এলাকার দেউলি থেকে একটি বাস কেরলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বাসটিতে মহাদেব সহ দু’জন চালক ও একজন খালাসি ছিলেন। ৬ ই জুন সকাল নাগাদ বাসটি কেরলে পৌঁছায়। ঐদিনই ৩৪ জন শ্রমিককে নিয়ে বাংলার উদ্দেশ্যে বাসটি রওনা দেয়।জানা গেছে,শনিবার বিকেল নাগাদ বাসের মধ্যেই অসুস্থ বোধ করেন বাসটির চালক মহাদেব জানা। তাঁকে বাসের কেবিনে রেখে স্টিয়ারিং ধরেন সহকারী চালক। শনিবার রাতেই মহাদেবের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রবিবার ভোর রাতেই বাসের মধ্যেই মহাদেব মারা যান। বাসের ডিগিতে মহাদেবের মৃতদেহ নিয়েই মঙ্গলবার ভোরবেলায় হাওড়া জেলায় ঢুকে পড়ে পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই বাসটি। ৬ নং জাতীয় সড়কের উপর বাগনান থানার নাউপালায় পুলিশ বাসটিকে চেক করে। তারপরক বাসটিকে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃত চালকের দেহ মর্গে পাঠানো হয়। জানা গেছে, এই নিয়ে তৃতীয়বার মহাদেব কেরল থেকে বাসে করে শ্রমিকদের নিয়ে ফিরছিলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, “শনিবার বিকেল থেকে বাসের চালকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু, তাতে কর্ণপাত না করে বাসেই শুয়ে ছিল। রবিবার ভোর রাতে বাসটি তামিলনাড়ুর কাছে একটি পেট্রল পাম্পে ঢোকার সময়ে মহাদেবের মৃত্যু হয়।” প্রশাসন সূত্রে খবর বাস চালকের লাল রসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পাশাপাশি বাসের প্রতিটি যাত্রীকে কোয়ারেন্টিনে রেখে তাদের ও লালা রসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা