মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ছাড়াই হাজার হাজার শ্রমিক বিনা সুরক্ষায় কাজ করছেন, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা : করোনার প্রকোপ রুখতে এক জায়গায় বেশি লোক জড়ো না হ‌ওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার । সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটন কেন্দ্র সহ বিভিন্ন জায়গা বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থেকে কাজ করার পরামর্শ ও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু হেলদোল নেই উলুবেড়িয়ার চটকল গুলির। হাজার হাজার শ্রমিক এক সঙ্গে বিনা সুরক্ষায় কাজ করছেন সেখানে। তাদের নেই কোনো মাস্ক, ব্যবস্থা নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের। শুধু তাই নয় এক একটি বায়ো ম্যাট্রিক পদ্ধতির যন্ত্রেই হাতের ছাপের সাহায্যে উপস্থিতির হিসাব হচ্ছে।

অভিযোগ বায়ো ম্যাট্রিক পদ্ধতির বিষয় নিয়ে চটকল কর্তৃপক্ষকে বার বার বলা হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন চটকলের শ্রমিকরা। যদিও মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টা নিয়ে তারা ভাবছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তার সদুত্তর তারা দিতে পারেননি।

বাউড়িয়া জুট মিলের শ্রমিকরা জানান এই মিলে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিটি শিফটে হাজার খানেকের বেশি শ্রমিক একসাথে কাজ করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন। এখানকার শ্রমিক রাজীব লস্কর বলেন, আমাদের কোনো প্রকার সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।

দেওয়া হয়নি মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তাছাড়া বায়ো ম্যাট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতির হিসাব রাখার বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই আতঙ্কিত। করোনা সতর্কতার জন্য অবিলম্বে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে ম্যানুয়ালি করা হোক। একই অবস্থা অন্যান্য চটকলের ক্ষেত্রে ও। বাউড়িয়া জুট মিলের এক কর্তা বলেন, সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের ভাবনার মধ্যে রয়েছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা মোকাবিলায় উলুবেড়িয়া পুরসভা ও উলুবেড়িয়া মহকুমা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। পুরসভার ও মহকুমা শাসকের তরফে পুরসভা এলাকার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তৈরি করা হয়েছে। উলুবেড়িয়া পুর এলাকায় চেঙ্গাইল, বাউরিয়া, উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বর এই চারটি জোনে একজন করে চিকিৎসক ও আরো তিন জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে চারজনের টিম ঘুরছে পুর এলাকায়। তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। লোকের প্রয়োজনীয় সতর্কতার বার্তা দিচ্ছেন।

তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ ও দিচ্ছেন। ওই টিম চব্বিশ ঘন্টায় এলাকায় নজরদারী চালাচ্ছে। তারা রোগীদের চিকিৎসা ও করছে। তারা সঙ্গে রেখেছে অ্যাম্বুলান্স। কারো অসুস্থতার খবর পেলে সেই টিম দ্রুত সেই ব্যাক্তির বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রশাসনের পক্ষ নজর রাখা হচ্ছে ভিন রাজ্য ও বিদেশ থেকে আগত মানুষজনদের উপর।করোনা সন্দেহে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে গত দুদিনে চারজন ভর্তি রয়েছেন। তাদের উপর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে চিকিৎসকরা । প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকার বাউরিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ১৫ টি ও উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ২০ টি পর্যবেক্ষণ বেড রাখা হয়েছে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা