“তৃণমূলের লোকেরা আমার উঠোনে নিজেরাই মুড়ি-মাদুরি এনে খেয়ে গেল”, অভিযোগ খলিশানীর দোলুই দম্পতির

নিজস্ব সংবাদদাতা : তাঁর বাড়িতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে অমিত শাহের বঙ্গ সফর বাতিল হওয়ায় তা আর হয়নি। সেই বাড়িতে এসেই স্থানীয় তৃণমূল নেতারা নিজেরাই চপ-মুড়ি এনে উঠানে মাদুরি পেতে তা খেয়ে গেলেন — এমনটাই অভিযোগ বাড়ির মালিক কেষ্ট দোলুইয়ের। উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভার খলিশানী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা কেষ্ট দোলুইয়ের অভিযোগ, আমি আগে থেকে কিছুই জানতাম না। মঙ্গলবার বেলায় হঠাৎই আমার বাড়ির উঠোনে তৃণমূলের বেশ কিছু লোকজন ঢুকে পড়ে। ওরা নিজেরাই মাদুরি, মুড়ি এনে আমার উঠোনে বসে খেতে থাকে। আমার স্ত্রী’কে ডেকে মুড়ির গামলা ধরিয়ে ছবি তোলানো হয়। বাড়ির উঠোনে আচমকা অনেক লোক ঢুকে পড়ায় রীতিমতো আতঙ্কিত দোলুই দম্পতি।

তাঁদের কথায়,”আমরা তো আগে থেকে কিছুই জানতাম না। হঠাৎ একসাথে অনেক লোক উঠোনে ঢুকে পড়ে। তাই বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।” কেষ্ট দোলুইয়ের স্ত্রী নমিতা দোলুই জানান,”আমরা ওদের কিছুই দিইনি। ওরা নিজেরাই সব নিয়ে এসেছিল। এমনকি গামলাটাও আমাদের নয়। শুধু আমায় ডেকে মুড়ির গামলা ধরিয়ে ছবি তোলানো হল। আর জিজ্ঞাসা করা হল বিজেপি থেকে কোনো সুবিধা পেয়েছি কিনা।” এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপি। হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির সভাপতি প্রত্যুষ মন্ডল বলেন, আবারো তৃনমূলের ঘৃন্য রাজনীতি সামনে এলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসতে না পারায় মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলেন কেষ্ট দা ও নমিতা দি। তাদের সান্ত্বনা দিতে ১ লা ফেব্রুয়ারি আমরা তাদের বাড়িতে সহভোজ করি। কেষ্ঠ দা ও নমিতা দি নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে দেন।

মঙ্গলবার সকালে পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই হঠাৎ করে তাদের বাড়ির সামনে হাজির হন উলুবেরিয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক সহ প্রায় দেড়শ জন তৃণমূল নেতা কর্মী। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন নমিতা দি। নিজেরাই চপ মুড়ি কিনে নিয়ে এসে তাদের বাড়ির উঠোনে মাদুর বিছিয়ে বসে খাওয়া-দাওয়া শুরু করেন। প্রচন্ডভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেষ্ট দা এবং নমিতা দি। তৃণমূলের লোকজন তাদের চা খাওয়ানোর কথা বললেও, চা দিতে রাজি হননি নমিতা দি। পরে তৃনমূলের লোকজন সেখান থেকে চলে যান।” তিনি আরও বলেন,”উলুবেরিয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক নির্লজ্জভাবে মিথ্যা কথা বলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান যে কেষ্ট দা এবং নমিতা দি তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আপ্পায়ন করে খাইয়েছেন। এই নোংরা ঘৃণ্য রাজনীতি করেও বিজেপিকে আটকানো যাবে না।” উল্লেখ্য, ‘জনসংযোগ যাত্রা’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচিতে মঙ্গলবার কেষ্ট দোলুইয়ের বাড়িতে যান উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ইদ্রিস আলি, উলুবেড়িয়া পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক অভয় দাস, হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আব্বাসউদ্দীন খান সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। যদিও আব্বাসউদ্দীন খানের বক্তব্য,”সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলাম।” তবে এই ঘটনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে উলুবেড়িয়ার রাজনৈতিক মহলে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা