হারানো শৈশবের সন্ধানে স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ

নিজস্ব সংবাদদাতা : আমতা-বাগনান রোডের ফতেপুর থেকে পিচের রাস্তা চলে গেছে দামোদরের দিকে।রাস্তার শুরুতেই কাগজের ঘুড়ির সুশোভিত তোরণ, রাস্তাজুড়ে রঙবেরঙের আল্পনা, রাস্তার উপর উলে ঝুলছে রঙিন কাগজের নৌকা, পাখি, এরোপ্লেন, ফুল।সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এযেন একটুকরো হারানো শৈশব। হারানো শৈশব আর রাস্তাজুড়ে অনুপম আল্পনা দেখতে দেখতে বেশ কিছুটা পথ অতিক্রম করে হাজির হওয়া গেল উদং হাটের মাঠে।

সাতসকালে যে মাঠ ভরে ওঠে সবুজ ফসলের সমারীহে, সেই মাঠই রবিবাসরীয় দুপুরে যেন একফালি রঙিন জগতের আকার ধারণ করেছে। মাঠজুড়ে রাশি রাশি কচিকাঁচারা আঁকিবুঁকিতে ব্যস্ত।মাঠের মাঝে খ্যাতনামা শিল্পীরা ক্যানভাসে তুলির টান দিচ্ছেন। আবার কেউ মাটির কাজ,কেউ বাটিকের কাজ,কিমবা আবার গৃহবধূরা ব্যস্ত হস্তশিল্প তৈরিতে।এরকমই এক রবিবাসরীয় দুপুরে আমতা-১ ব্লকের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর উদ্যোগে উদং তরুণ সংঘের মাঠে বসেছিল ‘উৎকর্ষ'(গ্রামীণ হাওড়া অঙ্কন উৎসব-২০২০)-এর আসর।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির সম্পাদক তাপস পাল জানান,এবছরই প্রথম এই আয়োজন। চারটি বিভাগে প্রায় ৩০০ জন প্রতিযোগী অংশ নেওয়ার পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গনে নিজ হস্তশিল্প,চিত্র নিয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন শিল্প ও চিত্রকলা জগতের বহু প্রথিতযশা শিল্পী।মেদিনীপুর থেকে পটশিল্পের পসরা সাজিয়ে এসেছিলেন প্রখ্যাত পটুয়া শিল্পী বিজয় চিত্রকর ও ফুলজান চিত্রকর।

এই পটুয়া দম্পতি মাঠে বসে পটচিত্র অঙ্কনের সাথে পটুয়া গান গেয়ে আগত হাজার খানেক মানুষকে মুগ্ধ করেন। মহিলারাও হস্তশিল্প তৈরিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অংশ নেন।লাইভ আর্টেও যোগ দেন বহু শিল্পী।মাঠের মাঝখানে ক্যানভাসে নিজের ভাবনাকে আঙুলের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন শিল্পী সৈকত পাল।একদিনের এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শুভাশীষ পাল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী রমেশ দাস,আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত কুমার পাল,বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী রাকেশ মন্ডল,শিল্পী সন্দীপ দেয়াসী প্রমুখ। এই চিত্রকলা উৎসবে অংশ নেওয়া স্বনামধন্য পটুয়া বিজয় চিত্রকরের কথায়,”রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বহু মেলাতেই যাই,তবে অঙ্কন প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বর্ণাঢ্য উদ্যোগ সত্যিই অভিনব।” ছিল সামাজিক উদ্যোগও।অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এক দুঃস্থ মহিলাকে তুলে দেওয়া হয় হুইল চেয়ার।

অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ দাস জানান,”বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন শিল্পকে মূলত এই উৎসবে তুলে ধরা হয়েছে।তাই বিভিন্ন বিভাগে প্রথম পাঁচজন স্থানাধিকারীকে পুরস্কার হিসাবেও তুলে দেওয়া হয় পটচিত্র, পোড়া মাটির বিভিন্ন সামগ্রী।সাথে দেওয়া হয় চারাগাছ।”সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।গ্রামীণ হাওড়ার বুকে এই বৃহৎ অঙ্কন উৎসবকে কেন্দ্র করে আট থেকে আশির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা