তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে বোর্ড গঠনে যোগদান করতে পারলনা এক গোষ্ঠী। পঞ্চায়েতে যেতে তাদের গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা : উলুবেড়িয়া-পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। আমতা চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় এক গোষ্ঠীকে আটকে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এলাকায় উত্তেজনা। জানা গেছে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃনমুল কংগ্রেসের ১১ জন সদস্য। অভিযোগ তার মধ্যে এলাকার বিধায়ক নির্মল মাজি গোষ্ঠীর ৬ জনের সমর্থন নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হন মোসারফ মিদ্দা ও উপ প্রধান নির্বাচিত হন এই গোষ্ঠীরই সেখ রজব আলি। অভিযোগ এর পর থেকেই বিধায়ক গোষ্ঠীর হুমকিতে এলাকা ছাড়া ছিলেন  বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর ৫ জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য। মাস খানেক আগেই মোসারফ মিদ্দা প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করার পরেই বিধায়ক গোষ্ঠী ছেড়ে বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর দিকে চলে যান সেখ রজব আলি। সোমবার ছিল নতুন করে প্রধান নির্বাচনের দিন। অভিযোগ গতকাল রাত থেকেই রাস্তার উপর  আড়াআড়ি ভাবে দুটি গাড়ি, লোহার পাইপ, গাছের গোড়ে, বালির বস্তা ও ইঁট ফেলে পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় বিধায়ক গোষ্ঠীর লোকজন। এদিন সকালে উলুবেড়িয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সানা আখতারের নেতৃত্বে সেই সমস্ত বাধা সরিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকে পুলিশ। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয় কড়া নিরাপত্তার চাদরে। এলাকায় ঢোকার মুখে চলে নাকা চেকিং। অভিযোগ সেখ রজব আলির নেতৃত্বে ৬ জন জয়ী সদস্য পঞ্চায়েত অফিসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় আমতা- রানিহাটি রোডের ১০ নম্বর পোলের কাছে‌ তাদের আটকে দেয় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডা। পঞ্চায়েত অফিসে যেতে বাধা পেয়ে পথ অবরোধ শুরু করে বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যরা। অভিযোগ এই সময় পুলিশ জোর করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আটক করে বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর প্রধান পদের দাবিদার সেখ রজব আলিকে। অন্যদিকে বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর ৬ জয়ী সদস্য পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছাতে না পারায় বোর্ড গঠন করে বিধায়ক গোষ্ঠীর জয়ী সদস্যরা। প্রধান নির্বাচিত হন সেখ ফারুক। বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর প্রধান পদের দাবিদার  সেখ রজব আলির অভিযোগ বিধায়ক ঘনিষ্ঠ জয়ী সদস্য সেখ ফারুক এর দূর্নীতির প্রতিবাদে অন্য গোষ্ঠিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পঞ্চায়েতের ১১ জন জয়ী সদস্যের মধ্যে ৬ জন আমাদের সাথে রয়েছে। এলাকার বিধায়ক নির্মল মাজি নিজের অনুগামীদের বোর্ড গঠনে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বেআইনি ভাবে পুলিশের সাহায্যে আমাদের  পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে না দেওয়ায় জন্য রাস্তায় আটকে দিয়েছে। এই বিষয়ে তারা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। প্রধান নির্বাচিত হওয়া বিধায়ক গোষ্ঠীর সেখ ফারুক বলেন টাকার লোভেই বিরোধীদের সাথে গিয়েছিল সেখ রজব আলি। আজ তারা বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরাই তাদের পথ আটকায়।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.