হাওড়ায় হাতির হানা, আতঙ্কে গ্রামবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা: সাত সকালে বাড়ির বাইরে মাঠের মধ্যে দু দুটি হাতি দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ উত্তর ভাটোরার গৃহবধূ পদ্মা অধিকারীর। ভয় পেয়ে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন পদ্মা। তার চিৎকারে ততক্ষণে জড়ে হয়ে গেছে গ্রামে লোকজন। লোকজন দেখে ততক্ষণে দাঁতাল দুটি হাতি আলু, সবজির ক্ষেত পেরিয়ে গা ঢাকা দেয় বাঁশ বাগানে।গ্রামে মধ্যে ঢুকেছে দুটি দাঁতাল হাতি এ খবর ছড়াতে আর বেশিক্ষন লাগেনি। শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে। হাতির মুখে পড়ে আহত হলেন দুজন গ্রামবাসী। এহেন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাওড়ার গ্রামিন জেলার দ্বীপাঞ্চল এলাকা উত্তর ভাটোরায়। স্হানীয় সুত্রে খবর সোমবার সকালে নদী টপকে দুটি দাঁতাল হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করে। উল্লেখ্য হাওড়া জেলার জয়পুর থানার প্রত্যন্ত এলাকা ভাটোরা ও ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে হাওড়া জেলার দ্বীপাঞ্চল। যা মুন্ডেশ্বরী,রূপনারায়ণ এবং হুড়হুড়িয়া খাল বেষ্টিত এই দীপাঞ্চল। উত্তর ভাটোরার গায়েনপাড়ার বাসিন্দাদের কথায় খুব সম্ভবত পশ্চিম মেদিনীপুর দিক থেকে নদী টপকে এই দলছুট হাতি দুটি গ্রামে ঢুকেছে। এ’দিকে হাতি এলাকায় প্রবেশ করেছে এই খবর পেয়ে জয়পুর থানার আওতাধিন ভাটোরা ফাঁড়ি। ফাঁড়ি থেকে আসে পুলিশ। তারা জয়পুর থানায় খবর দেয়। জয়পুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আসে। এলাকার পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য রমেশ পাল, আমতা দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল, বিডিও দেবদাস নস্কর প্রমুখ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। বি ডি ও দেবদাস নস্কর বলেন গ্রামে পুলিশ নিয়োগ করার পাশাপাশি মানুষদের বলা হচ্ছে কেউ হাতি দুটিকে উত্যক্ত করবেন না। হাতি ঢোকার খবর পেয়ে উত্তর ভাটোরা গ্রামে চলে আসে আরামবাগ,হাওড়া,উলুবেড়িয়া বন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। বিকালে এসে পশ্চিম মেদনীপুর ও ঘাটাল থেকে এসে পৌঁছায় দেড়শো জনের হুল্লা পাঠী। হাতি দুটিকে সরিয়ে নিয়ে যাবার কাজ শুরু করেছে হুল্লা পাটির লোকজন।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.