পরিবেশ ও মানুষের সুদৃঢ় মেলবন্ধনে অভিনব প্রয়াস রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের

নিজস্ব সংবাদদাতা : পরিবেশ ও মানুষের সুদৃঢ় মেলবন্ধন তৈরি করতে বিবাহ বাসরে গাছের গায়ে রাখী বেঁধে এক অভিনব প্রয়াস উত্তর দিনাজপুর রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক তাপস পালের। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রায়গঞ্জের মহানাগরিক থেকে শুরু অতিথি অভ্যাগতরা। বিবাহের বৌভাতের আসরে পরিবেশের সাথে মানুষের মেলবন্ধন ঘটাতে পঞ্চভূতের ক্ষিতি, অপ, তেজ, মুরুত ও ব্যোম এই পাঁচটি নামে গাছ রেখে তাদের গায়ে রাখী পরিয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি। 

নিজেদের বিয়েতে এই নবদম্পতির স্লোগান ছিল একটি বিবাহ একটি বৃক্ষরোপণ। শুধু তাই নয় ববর্তমান প্রজন্মকে পরিবেশের সাথে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে ইকো ফ্রেন্ডলি সেল্ফির আয়োজনও করা হয়েছিল প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে। বিবাহ বাসরে রাখা গাছেদের সাথে সেল্ফি তুলে তা সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তাও দেন নব দম্পতি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ রাখী বন্ধনের মাধ্যমে বিশ্ব ভাতৃত্ব বোধের কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর তাপস পাল তার বিয়ের প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে পরিবেশের সাথে মানুষের ভাতৃত্ব বোধকে তুলে ধরতে চেয়েছেন গাছেদের রাখী পড়ানোর মাধ্যমে। মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে বন্ধন যাতে কোনওমতেই আলগা না নয় সেজন্যই তাঁর এই অভিনব প্রয়াস। পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠানে আসা অতিথি অভ্যাগত এভাবেই আপ্যায়ন করলেন পাল দম্পতি। তিনি এও জানান, ” রাষ্ট্রপুঞ্জের ২০৩০ ” পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেও উদ্যোগী হন তিনি। তাঁর আবেদন উপহার বা লৌকিকতা নয় বিবাহ অনুষ্ঠানে পঞ্চভূতের নামে নাম রাখা পাঁচটি গাছে রাখী পড়িয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করা। 

শুধু পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই নয়, প্ল্যাস্টিকের ব্যাবহার বর্জন করতে প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানে অতিথিদের প্ল্যাস্টিকের থালা গ্লাসের বদলে মাটির থালা গ্লাসে খাবার পরিবেশন করলেন অধ্যাপক তাপস পাল। অধ্যাপক তাপস পাল বলেন, বর্তমান প্রজন্ম সেলফিতে মত্ত। নানান সেল্ফি তুলে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেয় তারা। কিন্তু তা সমাজের কোনও কাজে আসেনা। তাপস বাবু তাঁর বিবাহবাসরে থাকা গাছেদের সাথে সেল্ফি তুলে তা সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে ” ইকো ফ্রেন্ডলি সেল্ফি ” গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অধ্যাপক তাপস পাল তাঁর বিবাহ অনুষ্ঠানে স্লোগান রেখেছেন, ” একটি বিবাহ একটি বৃক্ষরোপণ “।  এমনই এক অভিনব বিবাহ অনুষ্ঠানে এসে নিজেকে গর্বিত বলে বোধ করছেন রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, নিজের বিয়ের দিনে অন্যান্যরা নানান রকম আনন্দ আর উল্লাস নিয়ে থাকে। কিন্তু রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক তাপস পাল যেভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলেছেন তারজন্য নবদম্পতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছে জানিয়েছেন তিনি। তিনি এও বলেন অধ্যাপক তাপস পাল পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে যেসব প্রকল্প গ্রহন করবেন তাকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবে রায়গঞ্জ পুরসভা।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *