ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে সুন্দরবনে ৫ হাজার চারারোপণ রথীনের, ত্রাণ এবার প্রকৃতি মা’য়ের জন্য

নিজস্ব সংবাদদাতা : আম্ফানে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তেমনই অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যেমন অনেক সহৃদয় ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তেমনই সবুজের এই অপরিসীম ক্ষতিপূরণেও এগিয়ে এসেছেন কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে অন্যতম রথীন্দ্রনাথ দাস। এতোদিন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা বাড়াতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বাইকে ভ্রমণ করেছেন তিনি। এবার আম্ফানে বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে বাঁচাতে তিনি উদ্যোগী হয়েছেন।

বালিদ্বীপের নদীর পাড় থেকে পাঁচ হাজার বীজ উদ্ধার করে সেগুলো থেকে চারা বের করে সেই চারা আবার ম্যানগ্রোভ অরণ্যে প্রতিস্থাপিত করবেন রথীন্দ্রনাথ বাবু। এই কাজে তিনি সবার কাছে ছোট্ট সাহায্যের আবেদন করেছেন।কী সেই আবেদন? —চারাগুলোকে খুব সামান্য অর্থের বিনিময়ে দত্তক নেবার আন্তরিক আবেদন। প্রতি চারা মাত্র আট টাকা করে।নিজের নামে বা প্রিয়জনের নামেও যে-কেউ চারাগুলো দত্তক নিতে পারেন।

রথীন বাবু জানিয়েছেন, “আজ আপনি সেই চারা দত্তক নিলে, আপনার নামের সেই চারা বেড়ে উঠবে বাদাবনের বুকে। বাঁচাবে সেখানকার মানুষ ও সমগ্র জীবকুলকে।পাশাপাশি সেই ম্যানগ্রোভই আবার আম্ফান কিমবা আয়লার মতো কোনও বিধ্বংসী সর্বগ্রাসী ঝড় এলে তার সামনে কলকাতা তথা বাংলার রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, “খুব‌ই খুশি হবো যদি আগামী পৃথিবীর জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এই ছোট্ট সাহায্যটুকু কেউ করেন।’ তাঁর কথায়”ত্রাণ এবার প্রকৃতি মায়ের জন্য”।

বিশ্ববাসীকে বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিতে এক অভিনব অভিযানে নেমেছিলেন কলকাতার বাঙালি দম্পতি রথীন্দ্রনাথ দাস ও গীতাঞ্জলি দাস।ফেসবুকে রথীনবাবু, ‘ওয়াইল্ড রথীন’ হিসেবে অধিক পরিচিত। প্রথমে দেশের ২৯টি রাজ্য ও পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ও পরে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেন তাঁরা। সংবিধানের ৪-এ বিভাগের ৫১-এ (জি) অনুচ্ছেদটি রথীনবাবু মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।

তিনি বিশ্বাস করেন যে, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের বনাঞ্চল, হ্রদ এবং বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা তাঁর অন্যতম কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। নিজের নেশাকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ করে এমনই একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রথীনবাবু। পশুশিকার বিরোধী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে একাধিক কাজকর্মে তিনি নিজে হাত লাগিয়েছেন। কখনও কখনও দুঃসাহসিক কিছু অভিযানেও গিয়েছেন।

‘গণ্ডার বাঁচাও’ -এর বার্তা নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ আর অসমে মোট ২৮২২ কিমি সফর করেন তিনি। এই সফরে ১৬৭টা স্কুলে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত সচেতনতা শিবির করেন তিনি। এর পর তৃতীয় সফর। “কেন বন্যপ্রাণ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য?”, দেশবাসীকে সেই পাঠ দিতেই বেরিয়ে পড়েন দু’ জন। ভারতের দশটি রাজ্যে প্রায় ৬০০০ কিমি সফর করে তাঁরা পৌঁছে যান ২৩২টি স্কুলে। প্রথম তিনটে সফরের সফলতার পর ছিল ‘জার্নি ফর টাইগার’ নামের এই সফর।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা