নতুন মানব সভ্যতা সৃষ্টির বছরে শুরুতে ধ্বংস

– সুকুমার দেবনাথ

বেসরকারী মতে সুন্দরবনের দশটি ব্লক থেকে পাঁচ (5) লক্ষ লোককে সরিয়ে আনা হয়েছে রেসকিউ সেন্টারগুলিতে। তিরিশ লক্ষ জলের পাউচ বিলি ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সাড়ে তিন হাজার (3500) কিলোমিটার নদীবাঁধ অরক্ষিত। বহূ জায়গায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাটার কারণে কিছু টা কম চাপ এখন পযর্ন্ত।

ম্যস্যজীবীরা নামখানা, কাকদ্বীপ, দীঘা, শংকরপুর নোঙ্গর করে আছে। সরকারি দপ্তর ও জেলা প্রশাসন প্রচন্ড সতর্ক ও উদ্বেগে।

সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের  সাতজেলিয়া দ্বীপের একটি স্কুলবাড়িতে এই মুহুর্তে শ’দুয়েক গ্রামবাসী। তাদের নদীবাঁধের খুব কাছাকাছি থাকেন। প্রশাসন তাদের  তুলে এনে রেখেছে। গতকাল থেকে তাদের থাকা খাওয়া বাসস্থানের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন নিয়েছে। তবে তাদের মনপ্রাণ নদীবাধের ওপর নিজের মাটির ঘরে আটকা পড়ে আছে। সেই ঘরটিই তার পৃথিবী। নেতৃস্থানীয় গ্রামবাসী চন্দন মন্ডল জানালেন,’ মঙ্গলবার থেকে এদের সরিয়ে আনা হয়েছে। খাওয়া থাকার কোন সমস্যা নেই। জীবনহানির কোন আশঙ্কা নেই। তবে সবার মনে তো একটা আতঙ্ক কাজ করবেই। ফসলের ক্ষতি হবে অনেকের। পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে। রোগ বাড়বে। বিশেষ করে জলবাহিত রোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।’

কুলতলীতে নদীবাঁধের অবস্থা ভয়ের কারণ।  সেখানে সেচ দপ্তর কতটা তৎপর তা নিয়ে সন্দেহ আছে তবে গ্রামবাসীরা সদা জাগ্রত।’ আমরা সব প্রশাসনকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার কথা বলেছি,’ বললেন কুলতলি জেলা পরিষদ সদস্য গোপাল মাজী।

তবে সুন্দরবন শুধু  নয় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ সব জেলাতেই ঝড়ের প্রকোপ পড়েছে। সব মিলিয়ে সাতথেকে আট  (7-8) কোটি মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে আশঙ্কা।

আজ থেকে সাড়ে চারশ (450)বছর আগে ফরাসী জ্যোতিষী ও ডাক্তার মিচেল নস্ট্রা ডামুস 2020 সাল সম্পর্কে তার বই’ Les Propheties’-এ যেমন ভয়ংকর আশঙ্কার কথা বলেছিলেন তেমনি আশার বাণীও শুনিয়েছেন

অর্থনৈতিক সমস্যা,শেয়ার মার্কেট ক্রাশ, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক  বৈষম্য, মানুষের গনতান্ত্রিক ধ্যান ধারনার অবমুল্যায়ন ঘটাবে। ভৌগলিক আবাহাওয়া ও প্রাকৃতিক বির্যয়ের মধ্য দিয়ে  এক নতুন পৃথিবী জন্প্রম নেবে। প্রাকৃতিক  ঘূর্ণিঝড়, প্লাবন, ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাতের মধে দিয়ে  পরিশুদ্ধ হবে জগৎ।

তিনি বলেছেন সাইক্লোন, হারিকেন, ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস, ভুমিকম্পের  মত প্রকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিশ্রুত পরিশুদ্ধ করা হবে। এবং তা শুরু  হবে 2020 সালেই।

তেমনি বছরের শেষের দিকে ভাল প্রগতি আসবে। আধ্যাত্মিক উন্নয়ন হবে। নতুন করে এক পৃথিবী গড়ে উঠবে। তাই ভাঙ্গা গড়ার বছর হল 2020 সাল। এই সালে পৃথিবীর মহাসংকট কাল। বিশ্বকে পবিত্র করার বছর। আবার নতুন পরিশুদ্ধ বিশ্ব গড়া শুরু । ফলে 2020 একটি ঐতিহাসিক বছর হবে। একটি রূপান্তরিত মানব সভ্যতার জন্য এই ধ্বংস ও সৃষ্টির চুড়ান্ত রূপ দেখা দেবে। মানুষের নবজন্ম হবে এক নব আধাধ্যাত্মিকরূপে। এভাবেই বর্ণনা করেছেন নস্ট্রাদামুস।

যদিও বস্তুবাদীরা (realstic world)তাকে পাগল আখ্যা দিয়েছেন। তাতে এই জ্যোতিষী কাম ডাক্তারের ভক্ত সংখ্যায় কমতি নেই। একজন ডাক্তার যিনি প্লেগ রোগের চিকীৎসা করে বেড়াতেন তিনি কিনা হলেন জ্যোতিষী ও ভবিষ্যদ্রষ্টা !

মাত্র একষট্টি বছর বয়সে তিনি  মারা যান। মোট 942 টি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন যদিও অনেক গুলিই রুপক। কিছুটা ভাববাচ্যে বাণীগুলি লিখে প্রচার করেছেন তার ভক্তরা। যোগ বিয়োগ করে অনেক কিছুই তারা লিখে গেছেন।

করোনার মত বৈশ্বিক রোগের পর হঠাৎ করে উম্পুন (Umpun) মত ঘূর্ণিঝড় এসে হাজির। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় সরকার ও সাধারণ জনতা।

একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যায় জীবন হানির আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে।  কোনমতেই সাধারণ গ্রামবাসীর কোন সমস্যা হবেনা।

আম্ফান বা উনপুন (UnPun) ইতিমধ্যে অনেকটা ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। সুন্দরবনের বিশাল এলাকাজুড়ে এই ক্ষতি বিস্তৃত। তবে নদীবাঁধ ও ফসলের বেশি ক্ষতি হয়েছে। গোসাবা বাসন্তী কুলতলিতে যেমন নদীবাঁধ ভেঙ্গেছে। তেমনি সাগর,পাথরপ্রতীমা, রায়দিঘী,  কাকদ্বীপের অনেক ক্ষতি হয়েছে। পুরোপুরি ঝড়ে আরো কত ক্ষতি হবে তা জানা যায় নি।

2009 এর  আয়লা ঘূর্ণিঝড়ের পর যেসব ফ্লাড(flood center) সেন্টার করা হয়েছিল প্রতিটি গ্রামসভায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাক্রান্তদের ঠাঁই দেবার জন্য, সেসব সেন্টার এখন ‘কোরেন্টেন সেন্টার’। ভিন রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী (Migrant) শ্রমিকদের রাখা হয়েছে ও হচ্ছে।

এখন এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সেই পুরনো পদ্ধতি সম্বল। স্কুলগুলোকে আশ্রয়স্থল বানানো। সেগুলোই ভরসা। নদীবাঁধের কাছাকাছি লোকজনকে এইসব স্কুলে সরানো হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের হিসাবে চার লক্ষাধিক(more than four lac) মানুষকে সরিয়ে এনে ফ্লাড সেন্টার গুলির পরিবর্তে স্কুলগুলিতে রাখা হয়েছে। ঝড়ের গতিমুখ পাথর প্রতিমা ব্লকের গোবর্ধনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত  হয়ে এল প্লট-এর দিকে।  অন্যদিকে বাসন্তীর ঝড়খালি হয়ে গোসাবা ব্লকের পাশ দিয়ে সন্দশখালি হয়ে বাংলাদেশের হাতিয়া, সন্দিপ, কুতুবদিয়া হয়ে বেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। পশ্চিমবঙ্গের  সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড়ে ও বন্যায় বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় দুই পরগণার দশটি(10) ব্লক। উত্তর চব্বিশ পরগণার সন্দেশখালি, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ। আর দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার গোসাবা,বাসন্তী, কুলতলি, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমা, সাগর, কাকদ্বীপ। এছাড়াও ঘোড়ামারা দ্বীপ, মৌসুমী দ্বীপ যা কাকদ্বীপের মধ্যে পড়ে সেখানে সবার আগে ঝড়ের আঘাত আসে। সতর্ক থাকতে হয় প্রশাসনকে।

Author: নিজস্ব সংবাদদাতা